নাইক্ষ্যংছড়ি-সোনাইছড়ি সড়কে গণডাকাতি, আহত-২


নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি-সোনাইছড়ি সড়কের দুর্গম জুমখোলা নতুন রাস্তার মাথায় বৃহস্পতিবার (১৫ফেব্রুয়ারি ) রাতে এক গণডাকাতির ঘটনায় টাকাসহ ২ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে ডাকাত দল। ভারী অস্ত্র হাতে হাফপ্যান্ট পরা ১২/১৩ সদস্যের এ দলটি উপজাতীসহ ব্যবসায়ী, পথচারী, গাড়ি চালক ও ২ ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে এসব লুট করে ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে বীর দর্পে চলে যায় গহীন বনে।

এ সময় ডাকাতের মারধরে আহত হন-দু’মটর বাইক চালক। পরদিন  ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে স্বশস্ত্র এ ডাকাতদল পার্শ্ববর্তী সাত ঘরিয়া গ্রামে হানা দিয়ে চাঁদা দাবি করায় এবং তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়ায় তারা পালিয়ে এসে নাইক্ষ্যংছড়ির মধ্যম ছালামিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয় চাক উপজাতী সম্প্রদায়ের একটি গ্রামের লোকজন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান বিজিবি ও পুলিশ বাহিনীর চৌকস একাধিক দল। তারা ডাকাতদের আটক করার জন্য কয়েকটি পাহাড় ঘিরে রেখেছে।

ডাকাতের কবলে পরে সর্বস্ব হারানো মুহাম্মদুল হক বাহাদুর পুতু জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হাফ প্যান্ট পড়া প্রায় ১২/১৩ জনের  অস্ত্রধারী ডাকাত দলটি প্রথমে ৭/৮টি যাত্রিবাহী মটর বাইক থামিয়ে লুটপাট চালায়। পরে বাইক গুলো দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেট সৃষ্টি করে অন্যান্য গাড়ি থেকেও পর্যায়ক্রমে লুটপাট করতে থাকে। তার ডাম্পার ( ট্রাক) গাড়িটি থামিয়ে তার কাছ থেকে ২১ হাজার ৩ শত ৭০ টাকাসহ গাড়ির সকলের ৫টি মোবাইল সেট কেড়ে নেয়। এর মধ্যে ৪টি এনড্রয়েট সেট রয়েছে।

সে আরো জানান, এ সময় তার সামনেই নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ও রামুর রাজার কূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যথাক্রমে বাহাইন চেয়ারম্যান ও মুফিজ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং একটি আই ফোনসহ ৩টি মোবাইল সেট কেড়ে নেয় ডাকাত দল। ডাকাতিকালে বাহাইন চেয়ারম্যানকে নাজেহালও করে ডাকাতরা। এভাবে ৮ গাড়িচালক এবং ডজনাধিক পথচারীর কাছ থেকে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দলটি। তাদের মারধরে আহত হয়, মটর বাইক চালক বশর (২৩) ও নুরুল আলম (২৭)।

অপর দিকে পৃথক ঘটনায় ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের সাতঘরিয়া পাড়া নামক গ্রামে হানা দেয় ডাকাত দলটি। এ সময় তারা গ্রামের চাল্লা থোয়াই চাককে মারধর করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে খুনের হুমকি দেয় তারা। পরে তার বাড়ি থেকে কয়েকটি মুরগি নিয়ে গিয়ে রান্না করেও খায় এ ডাকাত দলটি।

বিষয়টি জানান চাল্লা থোয়াই চাকের ৬০ বছর বয়সী মা চাইহ্লাও চাক। তিনি জানান, আমাদের ডাকাত টাকা চেয়ে মারধর করে। এ জন্য স্কুলে আশ্রয় নিয়েছি।

এসব খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ৩১ বিজিবি অধিনায়কের নির্দেশে সুবেদার অসিত কুমার দের নেতৃত্বে বিজিবি ও থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে পুলিশদল শুক্রবার(১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত পাহাড়ে পাহাড়ে ডাকাত দলকে আটক করার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর শেখের মুঠো ফোনে একাধিকবার কল করলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

তবে এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান, এ সড়কে এধরণের ডাকাতির ঘটনা এ প্রথম। পথচারীসহ অনেকের সব কিছু কেড়ে নেয় ডাকাতদল। মারধরও করে।

৩১ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ারুল আজিম জানান, ডাকাত দলটি অস্ত্রধারী। তাদের ভয়ে অনেকে আতঙ্কে। তাই তাদের আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের রেহাই দেয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *