নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রশাসনের সংরক্ষিত এলাকায় পরিত্যক্ত দুইটি অফিসার্স কোয়ার্টার ঝুঁকিপূর্ণ!


বাইশারী প্রতিনিধি:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের সংরক্ষিত এলাকায় দুইটি অফিসার্স কোয়ার্টার দীর্ঘদিন যাবত পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও এখনো কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ  ভবনের পরিণত হয়েছে। ভবন দুইটি যেকোন মুহুর্তে ধ্বসে পড়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানালেন আশে-পাশে চলাচলকারী ও বসবাসকারীরত লোকজন। ভবন দুটি হলো উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও জনসাধারণের হার হামেশা চলাচলরত রাস্তার পাশে।

দুইটি ঝুঁকিপূর্ণ অফিসার্স কোয়ার্টারের মধ্যে রয়েছে (১) বন মল্লিকা ভবন (২) বনফুল ভবন। দুইটি ভবনেই গত এক যুগ আগে সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা যায়। উপজেলা  নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ২০ গজের মধ্যে একটি ভবনের অবস্থান এবং অপর ভবনটি অফিসার্স ক্লাবের যাওয়ার রাস্তার পাশে অবস্থিত।

সরজমিনে এই প্রতিবেদক ওই এলাকায় গিয়ে পরিত্যক্ত ভবনের পাশে বসবাসরত সরকারি কর্মকর্তা এবং ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভবন দুইটির পার্শ্ব দিয়ে চলাচলের সময় তারা রীতিমত আতঙ্ক অবস্থায় চলাচল করেন।

কারণ হিসেবে জানতে চাইলে তারা আরো জানান, একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপরদিকে অন্ধকারচ্ছন্ন কোয়ার্টারগুলোতে রাত নামলেই শুরু হয় অসামাজিক কার্যকলাপ। পাশের কোয়ার্টারের বসবাসরত প্রাণী সম্পদ বিভাগের পীযুষ কান্তি চাকমা ও জসিম উদ্দিন জানান, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ তো আছেই। এর পরে রয়েছে রাত নামার সাথে সাথে ভবনের ভিতরে চলে অসামাজিক কার্যকলাপ, বখাটের আড্ডা, রাতভর চলে মদ, গাজা ও ইয়াবার মত মরণ নেশার খেলা। ওদের বাধা দিতে গেলে ইট পাটকেল ছোড়ে তারা। এরই মধ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে কোন রকমে আতঙ্ক অবস্থায় জীবনযাপন করছি।

সরজমিনে পরিদর্শনে আরো দেখা যায়, ভবন দুইটি বর্তমানে জঙ্গলাপূর্ণ অবস্থা। ছাদের উপরে গাছপালা গজিয়েছে। ভিতরের রুমগুলোতে সিগারেটের বাট, মরণ নেশার আসবাব সহ নানা জাতের নেশার জিনিসপত্র ও জিনসিন পাওয়ারের খালি বোতল। অধিকাংশ রুমের দরজা, জানালার গ্রিল, লোহার রড সহ মুল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে।

এছাড়া পরিত্যক্ত ভবন দুটিতে চোরের দলও রাতে ওৎপেতে থাকে বলে অনেকে জানান।  কিছুদিন আগেও সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে চোরের দল মূল্যবান জিনিসপত্র সহ নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। তাছাড়া নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, এই চোরের দল উপজেলার অধিকাংশ নিরাপত্তার বাতি দৈনিক চুরি করে নিয়ে যায়। তাই অবিলম্বে ভবন দুইটি ভেঙ্গে ফেলার দাবি জানান সুশীল সমাজ ও স্থানীয় লোকজন।

সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান, উপজেলা প্রশাসনের দুইটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে তিনিও শঙ্কিত। যেকোন মুহুর্তে ভবনগুলো ধ্বসে পড়ে দূর্ঘটনা আশঙ্কার কথাও জানান।

তিনি আরো বলেন, পরিত্যক্ত ভবনে চোরের দল লুকিয়ে থাকে এবং রাতের অন্ধকারে এরা বিভিন্ন অফিস আদালতে চুরি করার জন্য ওৎপেতে থাকে। কিছুদিন আগে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়েও চোরের দল হানা দিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র এবং নগদ টাকা নিয়ে যায়। তাই অনতিবিলম্বে ভবন দুইটি ভেঙ্গে ফেলে ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষার কথাও তিনি বলেন।

এ বিষয়ে উপজেলার নির্বাহী অফিসার এসএস সরোয়ার কামাল জানান, পরিত্যক্ত ভবন দুইটির বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন এবং এ বিষয়ে বিগত দিনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবর পত্রও প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন,  কিছুদিন আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব মহোদয় ওই ভবনগুলো সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন। কয়েক মাসের মধ্যে ভবনগুলো ভেঙ্গে ফেলে নতুন করে আবার কোয়ার্টার নির্মাণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *