নাইক্ষ্যংছড়িতে মৎস্য কর্মকর্তাকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে বেধড়ক পিটুনী, কান ধরে উঠ-বস করিয়েছে আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক


16036

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বেধড়ক পিটুনীর পর কান ধরে উঠ-বস করিয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক তছলিম ইকবাল। এ নিয়ে উপজেলার সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দেয়। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার তড়িৎ ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও উপজেলায় কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বিঘ্নে সরকারী দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তাসহ জীবনের নিরাপত্তা পাওয়ার দাবী জানিয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন।

উপজেলার ৪৬ জন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তছলিম ইকবাল ও সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আলী হোসেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিমউদ্দিনকে আওয়ামীলী কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা মৎস্য কর্মকর্তাকে কানে ধরে উঠ-বস করাতে বাধ্য করে। এসময় আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক তছলিম ইকবাল মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।

একটি বাঁধ নির্মাণের কাজ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে আওয়ামী লীগ নেতা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর পরই সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সাফায়াত মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলামকে অবহিত করা হলে অদৃশ্য কারণে তিনি ঘটনায় নীরবতা পালন করেন এবং কৌশলে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর ৪৬জন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি গত ৫ এপ্রিল বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান বরাবরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে দিতে গেলে সকল সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর তিনি উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন। পরে তারা বিভিন্ন মাধ্যমে এ স্মারকলিপির কপি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিজিবি অধিনায়ক, থানা অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পৌছে দেন।

তবে উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক তছলিম ইকবাল বলেন, দূর্ণীতিবাজ মৎস্য কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে উৎকোচ আদায় করেছেন। বিষয়টি জানতে মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের সাথে তিনি কথা বলেছিলেন মাত্র।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন দলের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নেতা তছলিম ইকবাল ইতিপূর্বে পুলিশ কর্মকর্তা, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, এনজিও কর্মী, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি’র উপর প্রকাশ্যে একাধিক হামলার ঘটনার সাথে জড়িত। এছাড়া সম্প্রতি তছলিম ইকবালের নেতৃত্বে ‘ইউএনওর গালে গালে জুতা মার তালে তালে’ শ্লোগানসহ ইউএনওর বাসভবনের ইট পাটকেল নিক্ষেপ ঘটনার সাথেও সে জড়িত।

এদিকে উপজেলা মৎস্য অফিসারকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি পার্বত্যনিউজের কাছে স্বীকার করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সাফায়াত মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিমউদ্দিন। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবেদনপত্র গ্রহণ না করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আবেদনপত্রে কারো স্বাক্ষর না থাকায় তা গ্রহণ করা হয়নি।

তবে তারা দুইজনই বলেন, রবিবার জেলা পরিষদের নতুন সদস্য ক্যাউ চিং চাক উল্লিখিত ঘটনার সকল দায় নিজের উপর নিয়ে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে এ ঘটনার সমাধান করে দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *