নাইক্ষ্যংছড়িতে ভোটার তালিকা হাল নাগাদে অনিয়মের অভিযোগ


news_img

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় সারা দেশের ন্যায় ভোটার তালিক হালনাগাদ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে। যাচাই বাছাই শেষে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বৈধ ফরমের অনুকূলে ব্যাক্তিদের ছবি তোলা হবে। বর্তমানে পূরণকৃত ভোটারদের যাচাই বাছাই চলছে ।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ভোটার নিবন্ধনের জন্য পাচঁ ইউনিয়নে হালনাগাদ কার্যক্রমে ৯জন সুপারভাইজার ও ৪৫জন তথ্য সংগ্রকারী নিয়োগ করে উপজেলা নির্বাচন অফিস। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুসারে ৩০ আগস্ট উপজেলায় ভোটার তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্যমাত্রার পার্সেন্ট অনুযায়ী পাচঁ ইউনিয়নে ৩৪২৫টি ভোটার নিবন্ধন ফরম বিতরণ করা হয়। বিভিন্নভাবে কড়াকড়ি আরোপের পরও নানা কৌশলে রোহিঙ্গারা ভোটার হচ্ছেন । কিছু অসাধু সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দূরন্ধর প্রকৃতির রাজনৈতিক নেতার কারণে সম্প্রতি মায়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকৃত রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্তি হচ্ছেন বলে অভিযোগে জানা যায় ।

কিছু নেতা-কর্মী মোবাইলসহ নানান উপহার সামগ্রীর বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করার জন্য তদবির চালিয়ে সফলও হয়েছেন বলে জানা যায় ।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ বলেন, রোহিঙ্গারা নানান কৌশল করে ভোটার হচ্ছেন । ভোটার হাল নাগাদ সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতাগণ টাকা পয়সা ও বিভিন্ন দামী উপহার সামগ্রী নিয়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করাচ্ছেন বলে তিনি নানা পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান ।

তিনি বলেন, গত ২০১২ সালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ৫১ হাজার পুরুষ-মহিলার জন্ম নিবন্ধিত হলেও বর্তমানে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে-৮৮ হাজার । এত সংখ্যা কিভাবে বাড়লো এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ।

বিভিন্ন এলাকার ভোটার হওয়ার যোগ্য অনেকে এ প্রতিবেদককে বলেন- নির্বাচন কমিশন প্রচারণার মাধ্যমে বাড়ি-ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহণের কাজ করার কথা থাকলেও অনেক এলাকায় এ নির্দেশনার বিপরীত দেখা গেছে। ভোটার হওয়ার যোগ্য ব্যাক্তিরা তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের বাড়ি গিয়েও কোন সুরাহা হয়নি। ফরম সংকটের কথা বলে তাদের বিদায় করা হয়েছে বলে জানান। নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের সাইফুল ইসলাম, তাহমিনা আক্তার, রিনা আক্তার,রিতা মল্লিক, সিমা রানী, আফতাব উদ্দিনসহ অনেকে এ অভিযোগ করেন।

একই অভিযোগ করেন বাইশারী, দোছড়ি, ঘুমধুম ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দারাও। তাদের অভিযোগ তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়িতে যাননি। তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যন্ত বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী এ প্রতিবেদকে জানান, তাদেরকে যে পরিমাণ ভোটার নিবন্ধন ফরম সরবরাহ করা হয়েছে তার দ্বিগুন ফরম এলাকায় প্রয়োজন ছিল। তারপরও নির্বাচন অফিসের তথ্য সংগ্রহকারীদের কাছে থাকা রেজিস্ট্রারে ভোটার হওয়ার মত যোগ্য ব্যাক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে ১০৩৬টি, বাইশারী ইউনিয়নে ৭৯৪টি, ঘুমধুম ইউনিয়নে ৮৯৪টি, দোছড়ি ইউনিয়নে ৩৯৯টি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নে ৩০৩টি ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণ করা হয়েছে। নিবন্ধিত এসব ভোটার তালিকা ১সেপ্টেম্বর থেকে যাচাই বাছাই করবেন উপজেলার বিশেষ কমিটি।

উল্লেখ্য যে,গত ৩০ আগস্ট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আইন শৃংঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম উপজেলা নির্বাচন অফিসার অরুন উদয় ত্রিপুরার নিকট নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় কি পরিমাণ ফরম বিতরণ করা হয়েছে তার পরিমাণ উল্লেখ করেন । জবাবে নির্বাচন অফিসার বলেন, আরও কিছু অবিতরণকৃত ফরম তার কাছে আছে । নিদ্রিষ্ট সময়ের ভিতর ফরম সংকট থাকলেও কেন বিতরণ করা হয়নি এজন্য নির্বাচন অফিসারকে উপস্থিত সদস্যগণ তিরিস্কার করেন ।

অভিযোগে জানা যায়,নির্বাচন কর্মকর্তাও উপজেলার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী গোপনে টাকার বিনিময়ে ওই অবিতরণকৃত ফরম গুলি রোহিঙ্গাদের বিক্রি করছেন এবং এগুলো গোপনে জমা নিচ্ছেন ।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাজা মিয়া বলেন,গোপনে এবং তথ্য সংগ্রহকারীর সহযোগিতায় এবারও প্রায় ৫শতাধিক রোহিঙ্গা ভোটার ফরম পূরণ করে যাছাই-বাছাইতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ।

এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি নির্বাচন অফিসার অরুণ উদয় ত্রিপুরার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রার ১০ ভাগ ফরম তথ্য সংগ্রহকারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তারপরও কেউ বাদ পড়লে তথ্য সংগ্রহকারীদের সাথে যোগাযোগ করে রেজিস্ট্রারে নাম অন্তর্ভুিক্তির কথা জানান তিনি।

তার বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা ভোটার করার অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কেন কথা না বলে এ বিষয়টি এড়িয়ে যান ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *