নভেম্বরের মাঝামাঝি রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার প্রতিশ্রুতি


কক্সবাজার প্রতিনিধি:

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ-মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের নেতা ও সেদেশের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে। একই সাথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৫ কমিউনিটি হলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব এই আশ্বাস দেন। এসময় জয়েন ওয়ার্কিং গ্রুপের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নানসহ দু’দেশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস ঘটনার পর প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ১৪ মাসের মাথায় দ্বিতীয় বারের মতো মিয়ানমারের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত দু’দেশের জয়েন্ট ওয়াকিং গ্রুপের তৃতীয় বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদল বুধবার রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলতে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসেন। বেলা ১১টার দিকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে প্রথমে ক্যাম্প কর্মকর্তা সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। পরে আশ্রয় নেয়া শতাধিক রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন।

এসময় রাখাইনের বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনার পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের শর্ত হিসাবে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলেন ধরেন। এসময় মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের নেতা মিন্ট থোয়ে তাদের দাবি দাওয়া মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিবেচনার আশ্বাস দেন। রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, তাদের নাগরিকত্বসহ নিজেদের ভিটে বাড়ি ও মৌলিক অধিকার ফেরত না দিলে তারা মিয়ানমারে ফেরত যাবে না।

পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে বলেন, নভেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া শুরু করবে। প্রথমে সনাক্তকৃত ৫ হাজার রোহিঙ্গা ও পরে দুই হাজার রোহিঙ্গাকে পর্যাক্রমে ফেরত নিবে।

রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়ার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিন্ট থোয়ে আরও বলেন, তারা এখানে এসে রোহিঙ্গাদের কথা শুনেছেন এবং বেশ কিছু শর্ত দিয়েছেন। মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে বিষয়টি জানাবেন।

এদিকে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিং করার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া হিন্দু রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সাথেও আলাপ করেন। তবে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের কোন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেননি।

এর আগে প্রত্যাবাসনের জন্য গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের তৃতীয় বৈঠকে যোগ দিতে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলটি দুইদিন আগে ঢাকায় পৌঁছেন। ঢাকায় তৃতীয় বৈঠক শেষে বুধবার সকালে মিয়ানমারের ১৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল কক্সবাজার বিমান বন্দর হয়ে উখিয়ার কুতুপালং রাহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। এসময় ক্যাম্পে অবস্থানরত শতাধিক রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেন। বিকালে প্রতিনিধিদলটি ঢাকায় ফিরে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *