নতুন ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা পানছড়ির অসহায় সালেমা


নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

উপজেলার পানছড়ি-তবলছড়ি সড়কের মধ্যম মোল্লাপাড়া রাস্তার পাশেই ছিল সালেমার ভাঙ্গা নড়বড়ে একখানা কুড়েঘর। শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বামী ওমর আলী, ছেলে ওমর ফারুক (১১) মেয়ে খাদিজা (৫)কে নিয়ে ভাঙ্গা ঘরের মেঝেতে রাত কাটাত এই পরিবারটি। তাদের পাশেই ঘুমাত বিড়াল-কুকুর। ঘরের চারিদিকে শীত নিবারণে দেয়া ছিল পুরনো ছেড়া কাপড়ের টুকরো। বর্ষার সময় ছিল না কষ্টের সীমা। চালের ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি ঘরে পড়ত বলে অনেকে সালেমাকে আসমানী বলেই ডাকত।

উপজেলার মোল্লাপাড়ার গ্রামের নজরুল ইসলাম মোমিনের মাধ্যমে এই অসহায় পরিবারের করুণ কাহিনী শুনে পানছড়ির ৪ যুবক মিলে একটি নতুন ঘর করার উদ্যোগ নিলে জায়গার মালিক তাদের অন্যত্র গিয়ে বাড়ি বাঁধতে বলে। মোল্লাপাড়ার শেষ প্রান্ত লবণ বেপারীর ঘাট এলাকার মো. হানিফ অবশেষে একটি ঘর বাঁধার জায়গা দেয়ার সম্মতি প্রদান করে। পরিশেষে মোল্লাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান নেয়ামত উল্লা রিপন, সানরাইজ কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক মো. জালাল হোসেন, কাঠ ব্যবসায়ীর পক্ষে মো. ইউসফু ও পানছড়ি প্রেস ক্লাবের সম্পাদক শাহজাহান কবির সাজু মিলে বানিয়ে দেয় একটি টিনের মজবুত ঘর।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের আন্তরিকতায় ঘরের চারিদিকের ঘেরাও টিন দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ায় একটি বাড়ি একটি খামারের পানছড়ি সমন্বয়ক মো. রফিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার(৬ ডিসেম্বর) বেলা ১টায় ছোট্ট পরিসরে এক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে নতুন একটি ঘর বুঝে পেল সালেমা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম গিয়ে অসহায় এই পরিবারের সদস্যদের  হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন একটি বাড়ি একটি খামারের সমন্বয়ক মো. রফিকুল ইসলাম, উল্টাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বাবুল, বিদ্যালয় শিক্ষক নেয়ামত উল্লাহ রিপন ও উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল হোসেন।

খুশিতে আত্মহারা সালেমা জানালেন অনেক কষ্টে ছিলাম এখন একটা মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে। আপনাদের আন্তরিকতার কথা কখনো ভুলব না। ঘর নির্মাতারা জানায়, সরেজমিনে ঘরটি দেখে নিজেদের খুব অপরাধী মনে হচ্ছিল। বর্তমান যুগে এ ধরণের ঘর থাকতে পারে তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা অসম্ভব। তাই নিজেদের অর্থায়নে ঘর তৈরীর সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করেছি। পানছড়ির সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেমও এই পরিবারটির জন্য সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছিল।

উল্লেখ্য এই পরিবারটি জঙ্গল থেকে কচু শাক, কচুর লতি, ঢেঁকি শাক তুলে বাজারে বিক্রি করেই সংসার চালাত। তিন/চার দিন না খেয়ে থাকলেও কারো কাছে হাত পাতার অভ্যাস ছিল না তাদের। চার যুবকের এই মহতী উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন সবাই সমাজে এইভাবে এগিয়ে আসা দরকার।

নিউজটি পানছড়ি বিভাগে প্রকাশ করা হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *