ধ্বংস হচ্ছে পার্বত্য বনাঞ্চল: খাদ্যাভাবে বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে হামলা, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য


15-10-2016-copy

কাপ্তাই প্রতিনিধি:

পার্বত্যঞ্চলের গাছপালা নিধন করে ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত হওয়ার দরুন এ অঞ্চল হতে বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হতে চলছে। তেমনি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার দক্ষিণ বনাঞ্চলের বন দিন দিন ধ্বংস হওয়ার ফলে বন্য প্রাণী খাদ্যাভাবে লোকালয়ে এসে হামলা ও ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি হামলার শিকার হয়ে বহু বন্যপ্রাণী বনদস্যুর হাতে মারা পড়ছে। বন্যপ্রাণীর হামলার শিকার হয়ে ইতিমধ্যে কয়েকজন মানুষ প্রাণও হারিয়েছে।   গত এক বছরে কাপ্তাইয়ে ৪টি বন্যহাতি মারা যাওয়ার ফলে প্রশাসনের পক্ষ হতে তেমন কোন জোড়ালে পদক্ষেপ না নেওয়ায় শুধু বন্যহাতি নয় পাশাপাশি হরিণ, সাপ,বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী পার্বত্য এলাকা হতে ইতিমধ্যে হারিয়ে যেতে বসেছে। যার কারনে  পার্বত্যঞ্চলের জীববৈবিত্র হুমকির মুখে পড়েছে।

পার্বত্যাঞ্চলের বন বিভাগের বনজসম্পদ যে হারে ধ্বংস হচ্ছে তাতে করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পার্বত্যাঞ্চল হতে বন্যপ্রাণীর কোন চিহ্ন থাকবেনা বলে অনেক অভিজ্ঞমহল মত প্রকাশ করে।  অভিজ্ঞ মহল বলেন, যে হারে বন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সে পরিমানে বনজ সম্পদ লাগানো হচেছনা। বনধ্বংসের পাশাপাশি বনের প্রাণী সম্পদ ও জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে । বনের প্রাকৃতিক খাদ্য ধ্বংস হওয়ার ফলে বণ্যপ্রাণীরা লোকালয়ে এসে রাতে-কিংবা দিনে তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে একের পর এক। এদিকে পাশুখাদ্য বাগান নামে থাকলেও বাস্তবে কোন কিছুই নেই। বন্য প্রাণীরা খাদ্য না পেয়ে লোকালয়ে এসে হামলায় কাপ্তাইয়ে গত তিন-চার মাসে কয়েকজন কৃষক প্র্রান হারায়।

অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, বনের মধ্যে খাদ্য থাকলে ঐ সকল বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে না এসে বনের মধ্যেই থাকত। আর বনের আভাসস্থল ধ্বংস হওয়ার দরুন প্রতিনিয়ত লোকালয়ে এসে হামলা চালাচ্ছে ওরা। কাপ্তাই নৌ বাহিনী এলাকা ও ব্যাঙছড়ি, কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের সীতার পাহাড় এলাকায় প্রতিনিয়ত বন্যহাতির আনাগোনায় বসবাসরত স্থানীয়রা ও সড়কের চালকগন আতঙ্ক পোষন করছে। এভাবেই আতঙ্কের মধ্যে সড়কে করছে যান চলাচল।

এদিকে নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক বন কর্মকর্তা বলেন, বনের মধ্যে পশুখাদ্য না থাকায় এবং বনজ সম্পদ নিধনের ফলে বণ্যপ্রাণী লোকালয়ে এসে হামলা করছে। এতে করে বিভিন্ন সময় শিকারীদের হাতেও বন্যপ্রাণী ধরা পড়ে মারা যাচ্ছে, বন হতে বিলুপ্ত হতে চলছে  বন্যপ্রাণী। পার্বত্যাঞ্চলের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র ধরে রাখতে হলে বনমন্ত্রনালয় ও বনবিভাগ হতে আরো জোরদার পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *