দেশ গড়ার প্রত্যয়ে শহীদ মিনারে পথশিশুদের শপথ গ্রহণ


123456789

ওমর ফারুক হিরু :
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস। বেশিরভাগ পথশিশু (টোকাই) এই মহান দিবস সর্ম্পকে অবগত নয়। তাদের জানা নেই ১৯৫২ সালে’র এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন, সালাম, রফিক, জাব্বার ও বরকতসহ আরো অনেকে। জানা নেই শহিদ ভাইদের তাজা প্রাণের বিনিময়ে ফিরে পাওয়া মাতৃভাষা বাংলার ইতিহাস সর্ম্পকেও।

দারিদ্রতা, ধিক্কার আর অবহেলা মধ্যে দুবেলার খাবার যোগাতে যাদের দিন-রাত কেটে যায় তারা নাইবা জানতে পারে মহান ২১ ফেব্রুয়ারি সর্ম্পকে, তাতে ক্ষতি কি। আর তারা চাইলেও শহিদ ভাইদের শ্রদ্ধায় শহিদ মিনারে ফুল দিতে পারে না, কেননা ফুল কেনার টাকা কোথায়?

তারপরেও এবারের একুশে ফেব্রুয়ারি রবিবার একুশের প্রভাতফেরি শেষে শহরের শহিদ স্মরীস্থ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা যায়, শহরের অর্ধশত পথশিশু’কে। ওই সময় তাদের বুঝানো হয়, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন সর্ম্পকে। অবগত করা হয় ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া শহিদ ভাইদের সর্ম্পকে। জানানো হয়, স্বাধীনতা রক্ষা ও দেশ গড়া সর্ম্পকে। শহিদ দিবসের  মর্ম উপলব্ধি করতে পেরে এ সময় পথশিশুরা হাত উঠিয়ে শপথ গ্রহণ করে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে।

এ ব্যতিক্রমধর্মী অমর একুশের অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে শহরের একদল সংবাদকর্মী দ্বারা পরিচালিত ‘আমরা পথশিশু’ সংগঠন। শপথ গ্রহণ শেষে ওইসব পথশিশুদের জন্য ভোজের আয়োজন করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কক্সবাজার শহরে দের শতাধিক পথশিশু রয়েছে। তাদের কারো বাবা নেই, কারো আবার নেই মা। অনেকের মা-বাবা উভই নেই। তাদের বেশিরভাগ শহরের রাস্তায় বড় হচ্ছে। ভাঙ্গারী কুড়িয়ে চলছে তাদের জীবিকা। তাদের বেশিরভাগেরই রাত্রি যাপন হয় রাস্তার পাশ্ববর্তী ফুটপাত ও মার্কেটের বাদান্দায়। আর এসব পথশিশুদের সংঘটিত করার জন্য নিয়োজিত রয়েছেন একদল তরুণ সংবাদকর্মী। যারা সপ্তাহে ১-২ দিন তাদের লেখা-পড়া করান। তাদের সুখে-দুঃখে সাথী হিসেবে কাজ করেন।

আমরা পথশিশু সংগঠনের উদ্যোগে প্রতি সপ্তাহের বৃহষ্পতিবার কক্সবাজার শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে ওদের পড়ালেখা শিখানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *