দূর্যোগের সময় অবহেলায় বেড়েছে হতাহত আর ক্ষয়ক্ষতি


unnamed

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আঘাতে মারা গেছে ৫জন। আহত হয়েছে অর্ধশত’রও বেশি। সাগরে মাছ ধরার ট্রলারসহ নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক মাঝি-মাল্লা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫২ হাজারেরও বেশি ঘর-বাড়ি। তার মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৭ হাজার। আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৫ হাজার। নষ্ট হয়েছে ৬০০ হেক্টর পানের বরজ এবং ২০০ হেক্টর সবজি ক্ষেত। এছাড়া শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এসব হতাহত আর ক্ষয়ক্ষতি’র মাত্রা বেশি হওয়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, দূর্যোগের সময় সতর্কবার্তা পাওয়ার পরেও অবহেলা করা। সঠিক সময়ে নিরাপদ স্থানে সরে না যাওয়া, অবহেলা করে মাছ ধরার ট্রলার উপকূলবর্তী নিরাপদ স্থানে না থাকা। এমনটাই বলছেন সচেতন মহল।

তারা বলছেন, দূর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকের প্রচেষ্টা অনুযায়ী লোকজন সাড়া দেয়নি। সাড়া দিলে এত হতাহত, নিখোঁজ আর ক্ষয়ক্ষতি হতনা।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় মোরা আঘাত হানার আগ থেকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দফায় দফায় মিটিং করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে কিভাবে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা করা যায়। কিভাবে উপকূলবর্তী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরানো যায়। সকল মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে বার বার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল উপকূলবর্তী এলাকায় চলে আসতে।

লোকজনের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ৫৩৮টি সাইক্লোন সেল্টার ছাড়াও স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। যেখানে ৫ লক্ষ মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই আশ্রয়স্থলে থানা আর শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ৮৮টি মেডিকেল টিম ছাড়াও সব চিকিৎসক সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছিল। এতসব ব্যবস্থার পরেও লোকজন সরতে চায়না বসতঘর থেকে। ঝুকি নিয়ে থেকেছে উত্তাল সমুদ্রে। যার ফলে এত মাছ ধরার ট্রলার আর জেরে নিখোঁজ হয়েছে। হতাহত হয়েছে লোকজন। এমনটাই দাবি সচেতন মহলের।

ঘূর্নিঝড় মোরা’র সময় দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ে আঘাত হানার আগের দিন সকালে আবহাওয়া অফিস ৭ নাম্বার বিপদ সংকেত দেওয়ার পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলবর্তী এলাকার লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ নানা ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে থেকে বঙ্গোপসাগরে সকল মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদস্থানে সরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ লোকজন নিরাপদস্থানে না গিয়ে নিজ ঘরেই অবস্থান করছিল। আর অনেকে মাছ ধরার নৌকা বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলের কাছা কাছি পৌঁছায়নি।

পরে বিকালের দিকে যখন ১০ নাম্বার মহা বিপদ সংকেত দেওয়া হলেও লোকজন নিজ এলাকা ছেড়ে যায়নি। তখন প্রশাসন গাড়ি দিয়ে অনেকটা জোরপূর্বক লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরাচ্ছিল। এরপরেও অনেকে যায়নি। এমনকি এ মহা বিপদ সংকেত থাকার পরেও মধ্য রাতেও উপকূলবর্তী এলাকার লোকজনকে নিজ এলাকায় থাকতে দেখা গেছে। তখনও অনেক মাছ ধরার ট্রলার উপকূলে ফিরেনি বলে নিশ্চিত করেছিল জেলা বোট মালিক সমিতি। এ চিত্র শুধু ঘূর্ণিঝড় মোরা’র সময় নয়। রোয়ানোর সময়ও একই অবস্থা ছিল। যার ফলে এত বেশি হতা-হত আর ক্ষয়-ক্ষতি।

এ ব্যাপারে, নুরুল ইসলাম নামে এক বোট ব্যবসায়ী জানান, লোভি কিছু অসাধু বোট মালিকের কারণেই এত বোট আর মাঝি-মাল্লা নিখোঁজ। তারা খরচ হওয়া টাকা উঠানো জন্য’ই এ বড় ঝুঁকি নেয়। যার ফলে এ নিখোঁজ আর প্রাণহানি ঘটে। এসব বোট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। আর প্রয়োজন সচেতনতাবৃদ্ধি মূলক প্রশিক্ষণ।

একইভাবে কলেজ শিক্ষক সাইফুল আলম জানান, যেসব লোকজন দূযোর্গের বার্তা শুনার পরেও নিরাপদ স্থানে সরে যায়না তারা নিজেদের পা’য়ে নিজেরাই কুড়াল মারে। কারণ তারা জানে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এর পরেও তারা অবহেলা করে বিপদের মধ্যে থাকে। তাদের এটা এক ধরনের বোকামী ছাড়া কিছুই নয়। কারণ যখন অবস্থা খুবই খারাপ হবে তখন ঠিকই নিরাপদ স্থানে চলে আসতে বাধ্য হবে। তাহলে ঝুঁকি না নিয়ে আগে থেকেই নিরাপদ আশ্রয় নিলে কি হয়। এতে হতা-হতের ঝুঁকিও কম থাকে। আর ঘর-বাড়ি গোছানোর সুযোগও থাকে।

প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন’র মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হল লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরানো। সেক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রয়োজন লোকজনের। নিজের জান-মালের নিরাপত্তা নিজেকেই দিতে হবে। যাতে করে হতাহত আর ক্ষয়ক্ষতি কম হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *