দুর্গা পূজাকে জাতিগত সম্প্রীতির উৎসব হিসেবে দেখতে চান আয়োজকরা


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

প্রতিবছরের মতো এবারও পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসবকে ঘিরে চলছে সাজ সাজ রব। শহর ছাপিয়ে গ্রামেও ছড়িয়েছে আড়ম্বর আমেজ।

এরিমধ্যে জেলার ৫৪টি পূজা মণ্ডপে মৃৎ শিল্পীদের হাতে নিঁপূণ ছোঁয়ায় দেবী দুর্গার বিমূর্ত অবয়ব ফুটে উঠছে। শান্তিপূর্ণভাবে দূগোৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসনও নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

পূজার সময় যতোই ঘনিয়ে আসছে ততোই ব্যস্ততা বাড়ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠির মাঝে। সবচেয়ে বড় উৎসব হবার কারণে পূজা মণ্ডপগুলোতে প্রতিবছর ভীড় করেন অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও। তাই এবারও খাগড়াছড়ি দুর্গা পূজাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসব হিসেবেই দেখতে চান পূজার আয়োজকরা।

খাগড়াছড়ি পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তরুন কুমার ভট্টাচার্য, জানান,খাগড়াছড়ি জেলায় এবার ৫৩টি প্রতিমা পূজা ও ১টি ঘট পূজা হবে। যা গত বছরের চেয়ে ৫টি বেশী। শারদীয় দূগোৎসবকে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে জেলা পুলিশের পাশাপাশি আন্তঃ সম্প্রদায় সভাতেও মিলিত হচ্ছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।

খাগড়াছড়ি পুলিশ প্রশাসন পূজার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে জেলার পূজা উদযাপন কমিটি ও বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের সাথে বৈঠক করছেন।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান জানান, খাগড়াছড়ি জেলার ৫৪টি পূজা মণ্ডপের মধ্যে ২৯টি পূজা মণ্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৬টিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ১৯টিকে সাধারণ হিসেব চিহিৃত করে পূজা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। মোতায়েন থাকবে সাদা পোষাকের পুলিশের পাশাপাশি মোবাইল টিম ও স্টাইকিং ফোর্সসহ পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য।

সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতেও সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু ও ত্রিপুরা সম্প্রদায় সবচেয়ে বড় এই উৎসবে মহানন্দে শামিল হন। দুর্গা পূজার মাধ্যমে পুজারীরা আশা করছেন, দেশ-সমাজ থেকে মুছে যাবে অমঙ্গল। আর জাগবে সর্বজনীন মনুষ্যত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *