parbattanews bangladesh

দুই সপ্তাহে কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো ১১ জনের!

বশির উল্লাহ, মহেশখালী:

হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছেন চালক ও সাধারণ যাত্রী। কেউই মানছে না ট্রাফিক আইন। হঠাৎ পর্যটন নগরীতে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। এতে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। তবে বিশিষ্টজনরা বলছেন, অল্প দক্ষ বা অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানোই সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি এসব চালক রাস্তা ফাকা পেলে বেপরোয়ার গতির গাড়ী চালাতে চেষ্টা করে। আর এতেই ঘটে দুর্ঘটনা।

বিশিষ্টজনরা বলছেন, বেপরোয়া গাড়ি চালাতে গিয়ে যাতে জীবনহানি না ঘটে, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। পরিবার সবসময়ই চায় আপনি এবং আপনার প্রিয় গাড়ি দুটোই থাকুক নিরাপদ। তবে কিছু চালক এখনও বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালায় যার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে এই জেলায়।

এদিকে গত ২৯ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে অন্তত ১১ জনের। পা হারিয়েছে দুইজন, আহত হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ। তার মধ্যে, ঈদাগাওতে শনিবার (১২ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মিনি ট্রাক চাপায় নিহত হয় শিশু সাকিব (৭)। সে ইউনিয়নের ফুলছড়ি দরগাহ পাড়া গ্রামের মো: মানিকের পুত্র।

গত ৩ মে বৃহস্পতিবার একটি টমটমকে ট্রাক ধাক্কা দিলে দুই রোহিঙ্গা কিশোরের মৃত্যু হয়। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কাস্টমস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই রোহিঙ্গা কিশোর হলো- মো. নছু মিয়া (১২) খালেদ হোসেন (১৬)।

গত ৯ মে কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা এলাকায় মিনিবাস-টমটম (ইজিবাইক) সংঘর্ষে মো. সোলতান নামে একজন নিহত হয়েছে। বুধবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে মরিচ্যা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত দুইজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত সোলতান উখিয়া উপজেলার ডেইলপাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। আহতরা হলো, নুরুল ইসলাম ও বেলাল উদ্দিন।

এদিকে চকরিয়া ও পেকুয়ায় ২০ ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ শিশু নিহত ও স্বামী-স্ত্রীসহ ৮ জন আহত হয়েছেন। বালু বোঝাই ট্রাকের ধাক্কা ও চাপায় ম্যাজিক গাড়ির যাত্রী এবং টমটম উল্টে নিচে চাপা পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

চকরিয়ায় গেল ১০ মে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টা ও সকাল সাড়ে ৫টায় এবং পেকুয়ায় ৯ মে বুধবার রাত ৯টায় দুর্ঘটনা তিনটি ঘটে। মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টা দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালীর নতুন অফিস এলাকায় যাত্রীবাহি পুরবী বাসের চাপায় পথচারী শিশু মো. কাউছার (৭) নিহত হয়। নিহত কাউছার ওই এলাকার আমানুল হকের ছেলে।

একইদিন সকাল সাড়ে ৫টার দিকে চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মহাসড়কে বালু বোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহি ম্যাজিক গাড়ি উল্টে যায়। ওই সময় ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলে মারা যায় রামু উপজেলার পূর্ব ভোমনখিল এলাকার গিয়াস উদ্দিনে ছেলে ৮ বছরের শিশু রিফাত উদ্দিন।

উখিয়ার সড়ক দূর্ঘটনায় আহত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সিরাজুল হক ডালিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

গত ১৩ মে বিকেলে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডিতে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে এক টমটম আরোহী নিহত হয়।
সবশেষ রোববার দিনগত রাত পৌনে দুইটার দিকে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছে। উপজেলার দরবার রাস্তা মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- উপজেলার উত্তর ধুরুং এলাকার গৌরাঙ্গ প্রকাশের ছেলে রঞ্জিত প্রকাশ লালু (৪৫) ও একই ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার শাহাব উদ্দিনের ছেলে মো. ফারুক (২০)। এসময় রাজীব চাকমা নামে গুরুতর আহত আরেক জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতরা সবাই মুদি দোকানের কর্মচারী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিদারুল আলম জানান, দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগতির মোটরবাইকটি একটি গাছের সাথে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে। আহত একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।

এছাড়াও মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় ডেইল অংশে সিএনজি ও মাহিদ্রা সংঘর্ষে পা হারান জেসমিন আক্তার নামে শাহপরীর দ্বীপের এক নারী। এসময় তার সঙ্গে থাকা ৫ বছরের মেয়েও আহত হয়। সম্প্রতি শহরে প্রাইভেটকার চাপায় পা হারান রিক্সা চালক মালেক।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালানোর ফলে এধরণের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব চালকদের নেই কোন প্রশিক্ষণ। অনেকে জানেন না ট্রাফিক আইন কি। তাহলে তারা ট্রাফিক আইন মানবে কি করে। এসব কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল এই প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে জানান, চালকরা বিভিন্ন সময় বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালাচ্ছে। আসলে তাদের দক্ষতা নেই। অদক্ষ চালকের কারণে মূলত বেশীরভাগ দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। আর এসব চালকদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।