দুই কর্মকর্তা দিয়ে চলছে বান্দরবানের সাত উপজেলার কাজ, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি


 

লামা প্রতিনিধি:

দুই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দিয়েই চলছে বান্দরবানের সাতটি উপজেলা প্রশাসন। প্রতি উপজেলায় একজন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তা নেই। ফলে সরকারের গৃহিত নানা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সরকারি গৃহিত উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দূর্গম পাহাড়ে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠীরা সরকারি উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেনা।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, আলীকদম ও লামা উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার পদটি খালী রয়েছে গত এক বছর ধরে। অপর দিকে রুমা উপজেলায় দীর্ঘ দুই বছর ধরেই পদটি খালী। এছাড়া থানছি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়ও একই অবস্থা। রোয়াংছড়ি উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)তর্পণ দেওয়ান অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন রুমা, লামা ও আলীকদমসহ চারটি উপজেলা। অন্য দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন থানছি ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ তিনটি উপজেলা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজলার সোনাছড়ি ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক মেম্বার অরবিন্দু বড়ুয়া বলেন, পিআইও না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পিআইও দিয়ে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে সরকারি উন্নয়ন কাজে ব্যাহত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদেরও দুর্ভোগে পোহাতে হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে। উন্নয়ন কাজ তড়িৎ গতিতে বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত পিআইও নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।

লামা উপজেলার রুপসী পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মারমা বলেন, নিজস্ব পিআইও নেই। তাই ভাড়াটিয়া পিআইও দিয়ে সরকারি উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করতেই অনেক কষ্ট।

২ নম্বর রুমা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শৈমং মারমা জানান, বান্দরবান জেলার প্রায় সব উপজেলাই দুর্গম। এ দুর্গম উপজেলাগুলোতে নানা প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনসহ দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ সামলাতে এক পিআইওই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে এক পিআইও চালাচ্ছেন চার উপজেলা। দূর্গম অঞ্চলের সরকারি গৃহিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের নিশ্চিতে জরুরী ভিত্তিতে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে পিআইও নিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন তিনি।

বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, শীঘ্রই শুন্য পদগুলোতে পিআইও  নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে চলেছে বলে জানা গেছে। থানছি উপজেলার  বিশেষ দুর্গম এলাকা রেমাক্রী, বড় মদক, তিন্দুসহ দূর্গমাঞ্চল সমূহে প্রকল্প পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা আমাকে সহযোগিতা করছেন।

জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন  কর্মকর্তা আকবর আলী বলেন, সারা দেশের ১৫০জনের পদ শুন্য রয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার পদে নিয়োগের বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট মামলা থাকায় বিপাকে রয়েছে সরকার। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *