দীঘিনালায় সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে ৫টি অস্ত্র ও ৪৫০ রাউন্ড গুলিসহ একজন আটক


Arms recover pic (02) 07-09-2015

নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘিনালা:

সেনাবাহিনীর অপারেশনে  পার্বত্য চট্টগ্রামে আবারো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। এবারে ঘটনাস্থল খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা থানা। গত রাত থেকে চলা এ অপারেশনে এখন পর্যন্ত ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি ভারী মেশিনগান, একটি গ্রেনেড,  দুইটি এসএলআর, একটি ৫.৫৬ এমএম এসএমজি, একটি ৭.৬২ ফোল্ডেড এসএমজি মতো ভয়ানক মারণাস্ত্র রয়েছে। এছাড়াও একটি মেশিনগানের ম্যাগজিন, তিনটি এসএলআরের ম্যাগজিন, তিনটি এসএমজি’র ম্যাগজিন, একটি রাইফেল ম্যাগজিন, একটি স্থানীয় তৈরী ম্যাগাজিন, ৬২ রাউন্ড মেশিনগানের গুলি, ১০৬ রাউণ্ড ৭.৬২ বোরের গুলি, ১২৫ রাউণ্ড ৫.৫৬ বোরের গুলি, তিনটি পাউচ, ৮ টি মোবাইল ফোন, ৬ টি সামরিক পোশাক ইত্যাদি। এঘটনায় সেনবাহিনী একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আটক সন্ত্রাসীর নাম বর্ষসভা চাকমা(৩৫)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন, দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লে.কর্ণেল মহসিন রেজা।

viber image 2

জানা যায়, উপজেলার দূর্গম ছাদকছড়া গ্রামে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলা-বারুদ মজুদ আছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার সন্ধ্যা থেকে সেনাবাহিনী ওই এলাকায় অভিযান শুরু করে। রাতভর অভিযানের পর ভোর ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছামাত্র সন্ত্রাসীরা প্রথমে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পরে সেনাবাহিনীও পাল্ট গুলি ছুড়ে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ হয়। এসময় বন্দুকযুদ্ধে উভয়পক্ষের প্রায় একশত আশি রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে থাকা প্রায় ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এসময় উলঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বর্ষসভা চাকমা নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে বর্ষসভা চাকমাকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুটি এসএমজি, একটি মেশিনগান, দুটি এসএলআর, একটি গ্রেনেড, বিভিন্ন অস্ত্রের ম্যাগজিন নয়টি, সাড়ে চারশত গুলি এবং ছয় সেট সেনাবাহিনীর পোষাক, একটি ডিভিডি সেট এবং আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

Arms recover pic (03) 07-09-2015

এসময় অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স.ম মাহবুব আলম, দীঘিনালা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর ইমতিয়াজ, এ্যাডজুটেন্ট তৌহিদুল ইসলাম মান্নান।

এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স.ম মাহবুব আলম পিএসসি জানান, ছাদকছড়া এলাকায় স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ২৫/৩০জনের একটি দল অবস্থান করছেন, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়।

দীঘিনালা জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল মহসীন রেজা বলেন, “তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার জন্যই সেখানে জড়ো হয়েছিল। সাধারণ জনগণের যেন জানমালে ক্ষতি না হয় সে দিক বিবেচনা করে আমরা আরও বড় ধরনের সশস্ত্র অভিযানে যাইনি। খাগড়াছড়ি রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর মো: নাসির-উল-হাসান খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত ১০টা থেকে দীঘিনালা জোনের সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করে। এ সময় বাচ্ছুক্কা চাকমা নামে এক সন্ত্রাসীকে আটক করে। এসময় একটি এসএমজি, তিনটি এসএলআর, তিনটি এসএলআরের ম্যাগাজিন, তিনটি এসএমজির ম্যাগাজিন ও সাড়ে ৩০০ রাউন্ড তাজা গুলিসহ সেনাবাহিনীর ৬ সেট পোশাক উদ্ধার করা হয়।

আটক বর্ষসভা চাকমা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। সে আরো জানায় প্রথমে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন, পরে কয়েকদিন আগে দীঘিনালায় এসে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

এব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত কুমার চাকমা জানান, আমাদের সস্বস্ত্র কোন সংগঠন নেই। অস্ত্র ও গুলিসহ আটক হওয়া ব্যক্তির সাথেও আমাদের কোন প্রকার সর্ম্পৃক্ত নেই।

উল্লেখ্য গত ১৫ আগস্ট একই রিজিয়নের আওতাধীন রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বরাদম এলাকায় সেনাবাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে ৫ জন নিহত হয়।

বাঘাইছড়ি

নিহত সন্ত্রাসীরা সকলে জেএসএস সংস্কারপন্থী গ্রুপের সদস্য। এসময় একটি সাবমেশিনগান, দুইটি চাইনিজ রাইফেল, তিনটি এসএলআর, একটি আমেরিকান পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হয়। সন্ত্রাসীদের আটকের সময় হাতাহাতি লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর একজন কর্পোরাল মারাত্মকভাবে আহত হয়। এসময় যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গুলি ও সামরিক পোশাক ও সামরিক সরঞ্জাম আটক করে। আটক গুলির মধ্যে ছিল ১২০ রাউণ্ড রাইফেলের গুলি, ৮৪ রাউণ্ড এসএমজি’র গুলি ১৪৫ রাউণ্ড এসএলআরের গুলি, ৯৪ রাউণ্ড পয়েন্ট টু টু বোর রাইফেলের গুলি, ৭ রাউণ্ড পিস্তলের গুলি। এছাড়াও এসময় বিপুল পরিমাণ সামরিক পোশাক ও সামরিক সরঞ্জামাদি আটক করা হয়।

এদিকে গত ৬ সেপ্টেম্বর বান্দরবানে একটি একে টুটু বোর রাইফেল, একটি বিদেশী পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ পার্বত্য জনসংহতি সমিতির দুই চাঁদাবাজ আটক করে যৌথবাহিনী।

vb 060915 1 copy

গত রবিবার ভোর রাতে জেলার রুমা উপজেলার রুমার চর পাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককালে তাদের কাছ থেকে একটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী একে-২২ বোর রাইফেল, পয়েন্ট ৩২ বোরের যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী একটি পিস্তল, ২০ রাউন্ড একে-২২ বোর রাইফেলের গুলি, ৪৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, একটি চাকু, ৪ টি চাঁদা আদায়ের রশিদ বই, ৫ টি মোবাইল, অতিরিক্ত ৭ টি সিম, ৪ টি ডাইরি, ৩ টি নোটবুক ও নগদ ২ লাখ ৯১ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এভাবে একের পর এক ভয়ানক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে। তারা এজন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *