দীঘিনালায় পাহাড়ের ঢালে অভিনব কায়দায় ঝরণার পানি সংরক্ষণাগার


দীঘিনালা প্রতিনিধি

দীঘিনালা উপজেলার রিজার্ভছড়া এলাকায় নিরাপদ পানি সমস্যা দূর করতে অভিনব কায়দায় তৈরি করা হয়েছে পানি সংরক্ষণাগার। আর এ সংরক্ষণাগারের পানি বিশুদ্ধ করার পর ব্যবহার করছে এলাকার শতাধিক পাহাড়ি ও বাঙ্গালী পরিবার। অভিনব কায়দার এ পানি সংরক্ষণাগারটি তৈরি করেন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

জানাযায়, উপজেলার রির্জাভছড়া এলাকার পাহাড়ি গ্রাম। তবে পাহাড়ি এলাকা এবং পাথর থাকায় নলকুপ বসানো সম্ভবপর না হওয়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকার লোকজন সবাই ঝিরি-ঝরণার পানি ব্যবহার করে আসছেন। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি-ঝরণাগুলো শুকিয়ে যাওয়ার পর এলাকায় বিশুদ্ধ পানির দুর্ভোগ বেড়ে যেত।

সম্প্রতি এলাকার পানি সমস্যা দূর করতে, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা হয়েছে পানি সংরক্ষণাগার। এতে প্রথমে পাহাড়ের ঝিরি-ঝরণার পানি প্রথম পাত্রে জমা হয়। সেখান  থেকে দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ ধাপ অতিক্রম করার পর সংরক্ষণাগারে জমা হওয়ার পর ব্যবহারের উপযোগী হয়। এরপরে এলাকাবাসী ব্যবহার করে থাকেন এ পানি।

পানি সংরক্ষণাগারের পানি নিতে আসা রিজার্ভছড়া এলাকার রেনুকা চাকমা এবং কনিকা চাকমা জানান, আগে এখান থেকে ঝরণার পানি ব্যবহারের জন্য নিতাম। কিন্তু ঐ সময়ের পানি অনিরাপদ ছিল। বর্তমানে পানি সংরক্ষণাগারের পানি বিশুদ্ধ। এখানকার পানি খাওয়া-রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করতে পারি।

এব্যাপারে দীঘিনালা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা  মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, প্রায় একলক্ষ ষাট হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয় এ পানি সংরক্ষণাগার।

তিনি আরো জানান, প্রথমে ঝরণার পানি প্রথম পাত্রে পড়ার পর কাঠের কয়লা এবং নুড়ি পাথরের সাথে মিশে ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়। পরে পাথরের তিন ধাপে শোধন হয়ে সংরক্ষনাগারে যায়। সংরক্ষণাগার থেকে এলাকাবাসী ব্যবহার করে থাকে।

বুধবার(৭ফেব্রুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শেখ শহিদুল ইসলাম রিজার্ভছড়া এলাকার এ পানি সংরক্ষণাগারটি পরিদর্শণ করেন। এসময় তিনি জানান, এলাকাবাসীর বিশুদ্ধ পানি সমস্যা দূর করতে এভাবেই অভিনব কায়দায় পানি সংরক্ষণাগার তৈরি করা হয়েছে। এখন এলাকার সবাই বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *