দীঘিনালার দুর্গম নাড়াইছড়ি কেন্দ্রে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্বাচনী কর্মকর্তা ও সরঞ্জাম প্রেরণ


দীঘিনালা প্রতিনিধি:

দীঘিনালা উপজেলার ৪নং দীঘিনালা এবং ৫নং বাবুছড়া ইউনিয়নে (২৯মার্চ)নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার বিকালে উপজেলার দুর্গম নাড়াইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্বাচনী সরঞ্জামসহ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যদের পাঠানো হয়েছে।

এদিকে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে একজন বিচারিক হাকিম, দুইজন নির্বাহী হাকিমের নেতৃত্বে তিনটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল থাকবে। বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) দুইটি স্ট্রাইকিং দল কাজ করবে জানালেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টানিং কর্মকর্তা রকর চাকমা। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সকল সরঞ্জামাদী কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে।

নির্বাচন কার্যালয়সূত্রে জানাযায়, ৪নম্বর দীঘিনালা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৯জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৫জন নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে ৫নম্বর বাবুছড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭জন প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ১১জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৭জন নির্বাচন করছেন।

৪নং দীঘিনালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ধনিতা চাকমা (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান চন্দ্র রঞ্জন চাকমা (চশমা), প্রজ্ঞান জ্যোতি চাকমা (আনারস) ও জীব কান্তি চাকমা (মোটরসাইকে)। অন্যদিকে ৫নং বাবুছড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং বাবুছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান (নৌকা) স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সুগতপ্রিয় চাকমা (আনারস), সাবেক চেয়ারম্যান পরিতোষ চাকমা (অটোরিক্সা), অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সন্তোষ জীবন চাকমা (ঢোল), সাবেক ইউপি সদস্য অনুপম চাকমা (মোটরসাইকেল), উন্মেষ কান্তি চাকমা (চশমা) ও নিউটন চাকমা (ঘোড়া)।

কার্বারী টিলা এলাকার মরতিমোহন চাকমা (৭১) জানান, অতীতের নির্বাচনে আমরা স্বাধীনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারিনি। তাই এবার শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হবে আশা করা যাচ্ছে। এতে পছন্দের প্রার্থী বিজয়ী হবে।

এব্যাপারে ৪নম্বর দীঘিনালা ইউনিয়নের একমাত্র মহিলাচেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ধনিতা চাকমা জানান, ভোটাররা যদি অবাধ ভোট দিতে পারে তাহলে আমার নৌকা প্রতীক বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবে।

অন্যদিকে পুলিশের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, চার নম্বর দীঘিনালা ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে চিত্রজিৎ রঞ্জিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য বানছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাবলাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ২ নম্বর বাঘাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বানছড়া আনন্দময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পাঁচ নম্বর বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ধনপাতা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনোরথ তালুকদার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নাড়াইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিক গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ বাবুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জারুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নুনছড়ি ডিপিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নুনছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জারুলছড়ি নিম্ন মাধমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুদ্দীন ভূঁইয়া জানান,‘অতিতের নির্বাচন ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ভোটকেন্দ্র গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সাড়ে তিনশ পুলিশ সদস্য, দুইশ আনসার ও ভিডিপির সদস্য, পুলিশ পরিদর্শকের নেতৃত্বে চারটি স্ট্রাইকিং দল, উপপরিদর্শকের নেতৃত্বে ৪টি ভ্রাম্যমাণ দল নিয়োজিত থাকবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে একজন বিচারিক হাকিম, দুইজন নির্বাহী হাকিমের নেতৃত্বে তিনটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল থাকবে। বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) দুইটি স্ট্রাইকিং দল কাজ করবে। এছাড়াও নিরাপত্তাবাহিনীর পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে টহল দল থাকবে। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের নির্বাচন নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যা যা করণীয় সব বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ভারত সীমান্তবর্তী নাড়াইছড়ি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সরঞ্জাম ও কর্মকর্তাদের হেলিকপ্টারে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য দীঘিনালা ইউনিয়নে ৫ হাজার ৪৬৮জন নারী ও ৫ হাজার ৫৫৯জন পুরুষসহ মোট ১১ হাজার ২৭জন ভোটার রয়েছে। এ ইউনিয়নে চয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ চারজন ও বাবুছড়া ইউনিয়নে ৪ হাজার ৯৮১জন নারী ও ৫ হাজার ৪৮০জন পুরুষসহ মোট ১০ হাজার ৪৬১জন ভোটার রয়েছে। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ ৭জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই ইউনিয়নের বিএনপি তাদের দল থেকে কোন প্রার্থী দেয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *