থার্টিফাস্ট নাইট: হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে নেই ঠাঁই


কক্সবাজার প্রতিনিধি:

থার্টিফাস্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষকে ঘিরে দেশি বিদেশি পর্যটকরা ভিড় করছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত পর্যটন নগরী নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর অপার সম্ভবনাময় কক্সবাজার শহরে। জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় এর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে উখিয়ার ইনানী, পাতুয়ার টেক,  মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, বৌদ্ধ মন্দির, চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, রামুর বৌদ্ধ বিহার, টেকনাফ সদর ও দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সের্ন্টমার্টিনে।

ফলে ঠাঁই নেই কোন হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে। আবার কেউ কেউ আগাম বুকিং দিলেও পর্যটকদের চাপ সহ্য করতে না পেরে বিভিন্ন মহলের চাপে হোটেল মোটেল ব্যবসায়ীরা তাদের বুকিংকৃত রুমগুলো অন্যত্র ভাড়া দিয়ে ফেলেছেন এমন অভিযোগ আগত বেশ ক’জন পর্যটকের। অনেক পর্যটক হোটেল-মোটেল, কটেজ, গেস্ট হাউস গুলোতে জায়গা না পেয়ে আত্মীয় স্বজনের বাড়ি খুঁজতে দেখা গেছে। হঠাৎ করে আত্মীয়-স্বজনের খবরে স্থানীয়দের অনেকেই খুশি হতে দেখা গেছে। অনেকেই জানান সারাবছর খোঁজ-খবর না থাকলেও অন্তত থার্টিফাস্ট নাইটে সবার দেখা মেলাতে তারা খুশি।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টে বাড়ছে নারী, পুরুষ আর শিশুদের ঢেউ। সূর্য হেলে পড়ার সাথে বাড়ছিল পর্যটকদের আনাগোনা। সময়ের পালাবদলে সমুদ্রে‘র বালুচর পরিনত হল জনসমুদ্রে। অনাবিল সৌন্দর্য্য উপভোগে সৈকত তীর লোকে-লোকারণ্য হয়ে গেছে। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল পেড়িয়ে অবারিত টেউয়ের সুনীল জলরাশিতে ভাসছে লাখো মানুষ। সাগরের গর্জনে ঘুম ভাঙ্গা শহরে একান্ত কিছু সময় কাটাতে পাড়ি জমিয়েছে দেশের আনাচে কানাচের পর্যটকসহ বিদেশীরা। প্রিয়জনের সাথে প্রিয় কিছু মূহুর্ত কাটাতে বেছে নিয়েছেন সাগর, পাহাড় আর দ্বীপ জেলা কক্সবাজারকে। ইংরেজি নববর্ষকে ঘিরে অসংখ্য হোটেল-মোটেল আগত অতিথিদের বরণ করতে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন স্পটগুলো সাজানো হয়েছে নবরূপে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক দম্পতি সুজন ও সুপ্রিয়া জানালেন, আবাসিক হোটেলের কক্ষ পেতে সমস্যা হবে তাই কয়েকদিন আগে থেকে চলে এসেছি। আমাদের পাশ্ববর্তী অনেকেই নতুন ২০১৮ কে স্বাগত জানাতে কক্সবাজার আসবেন। এখন পরিবেশ ভাল হওয়ায় আমরা সন্তোষ্ট। হোটেলের কক্ষ ভাড়া নিতে আমাদের কোন সমস্যা হয়নি। তবে সন্ধ্যা হলে ভয় ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে হয়। সাগর তীরে সন্ধ্যার পর অন্ধকারে ভূতরে পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

কক্সবাজার এর আবাসিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার বলেন, কক্সবাজারে তারকা মানের হোটেলসহ চার শতাধিক হোটেল-মোটেল, কটেজ ও গেস্ট হাউস রয়েছে। রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে গত কয়েক বছরে এসব হোটেল-মোটেলই লোকসান হয়েছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। লোকসানে পড়ে অনেক মালিকই ঋণভারে জর্জরিত। দেশের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। এখানকার নিরাপত্তাও খুব ভালো।

হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম চৌধুরী বলেন, পর্যটকেরা কক্সবাজার এলে কেবল শহরের সমুদ্র সৈকতেই ঘুরে বেড়ান না, পাশাপাশি ইনানীর পাথুরে বিচ, হিমছড়ির পাহাড়ি ঝরনা ও দরিয়ানগর পর্যটনপল্লি, টেকনাফের মাথিনকূপ, কুদুমগুহা, নেচার পার্ক, নাফ নদীর জালিয়াদ্বীপ, মিয়ানমার সীমান্ত, প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, রামুর বৌদ্ধপল্লি, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে যান।

কেয়ারী সিন্দাবাদের পরিচালক মো.শাহলম জানান, দমদমিয়া জাহাজ ঘাটে সেন্টমার্টিন গমনে কেয়ারী সিন্দাবাদসহ অন্যান্য জাহাজগুলো থার্টিফাস্ট নাইট ও ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে নতুন রঙে সাজানো হয়েছে। সব টিকেট আগে থেকেই বুকিং। কোন জাহাজে যাত্রীদের কোন আসন তিনদিন ধরে খালী নেই। অনেক যাত্রী জাহাজের টিকেট না পেয়ে ভারক্রান্ত মন নিয়ে ফিরেছেন।

এদিকে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার একেএম ড. ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে শহর ও সমুদ্র সৈকতে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও কাজ করছে। আমরা পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে সব সময় প্রস্তুত রয়েছি।

ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী বলেন, কয়েক দিনের ছুটিতে অন্তত কয়েক লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসবেন এমনটা ধরে নিয়েই কঠোর নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো মূল্যে কক্সবাজারকে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারে এসে পর্যটকরা যাতে বিড়ম্বনার শিকার না হন এবং হোটেল রেস্টুরেন্টগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সেজন্য বেশ কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিমও গঠন করা হয়েছে। তারা টহলে থেকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করবেন। তাছাড়া শহরের হোটেল-মোটেল রেঁস্তোরা ও যানবাহনসহ রিকশায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা রোধে মূল্য তালিকা টাঙ্গিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *