তীব্র গরমে অস্থির জনজীবন


?

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

প্রচণ্ড রোদ আর গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে জনজীবন। ঘরে-বাহিরে কোথাও যেন শান্তি নেই। এ গরমে একটু শীতল হতে অস্থির হয়ে উঠেছে লোকজন। যে যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করছে গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে। তার মধ্যে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুৎ। একটু পর পর চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ না থাকলে গরমের মাত্রা দ্বিগুন হয়ে দাঁড়ায়। গ্রামের লোকজন শীতল হতে ছুটে যায়, ছায়াযুক্ত খোলা জায়গায়, বড় গাছের নিচে আর ডুবে থাকে পুকুরে। শহরের লোকেরা ফ্যান আর এসি’র নিচে বসেও শান্তি পাচ্ছেনা। তাই একটু পর পর গোসল করছে আর ঠাণ্ডা পানীয় পান করে নিজেকে শীতল করার চেষ্টা করছে। সব মিলে অসহ্য হয়ে উঠেছে জনজীবন। বেশি কষ্ট হচ্ছে শ্রমজীবী লোকদের। খুব প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ লোকজন তেমন বের না হলেও শ্রমজীবীদের বাধ্য হয়ে বের হতে হচ্ছে। এ গরমে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে প্রায় সব বয়সী লোকজন। বেশি হচ্ছে ডায়রিয়া আর সর্দি।

এদিকে আবহাওয়া অফিস বলছে, এ ধরনের গরম আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। রবিবারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল, ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়েস। আর সর্ব নিন্ম হল ৩০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়েস। এর আগের দিন এরও বেশি তাপমাত্রা ছিল।

শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, বেকারী’র দোকান ঘুরে দেখা যায়, ঠাণ্ডা পানীয় বিক্রেতাদের ভাল’ই ব্যবসা চলছে। লোকজন দোকানে ঢুকতে ঢুকতে’ই বলছে ‘একটা ঠাণ্ডা দেন’। তারা বিভিন্ন কোম্পানির কোমল পানীয় পান করে কিছু সময়ের জন্য হচ্ছে ঠাণ্ডা। আইসক্রিম খেতে দেখা যায়, ছোট-বড় সবাইকে। জুস ব্যবসায়ীরাও ভাল লাভ করছে। চাহিদা বেড়েছে ঠাণ্ডা চিড়ার। একই ভাবে চাঙ্গা রয়েছে ডাব আর লেবু বিক্রেতাদের ব্যবসা।

এছাড়া ফ্যান আর এসি বিক্রেতাদের ব্যবসাও জমে উঠেছে। যাদের ঘর সিলিং ফ্যান রয়েছে তারা কিনছে টেবিল ফ্যান। আর যাদের ঘরে টেবিল ফ্যান রয়েছে তারা কিনছে সিলিং ফ্যান। আর যাদের ঘরে কোন ফ্যান’ই নেই তারা ধার-দেনা করে হলেও কিনছে ফ্যান।

অন্যদিকে একটু উন্নত জীবন-যাপন করা লোকজন চেষ্টা করছে যেন প্রত্যেকটি রুমে এসি লাগাতে। আর কিনছে বাড়তি শক্তি সম্পন্ন এসি।

শুধু তাই নয় এ অবস্থায় লোকজন ঝুঁকছে শুতির কাপড়ের দিকে। চেষ্টা করছে যত সম্ভব পাতলা আর আরামদায়ক কাপড় পড়তে।

শহরের বাহারছড়ার গৃহিণী ফাইজিয়া আফ্রিন বলেন, এ গরমে বাচ্চারা বেশি কষ্ট পাচ্ছে। রাতে-দিনে সমানে গরম। ঘুমাতে গিয়েও শান্তি নেই। বড়-ছোট সবার সারা গা ঘামাচী। টিনের ঘর হওয়ায় যেন গরম বক্সে’র মধ্যে বসবাস করা হচ্ছে।

শহরের পেশকার পাড়ার রোস্তমমিয়া জানান, বিল্ডিং ঘরে বিদ্যুৎ চলে গেলে যন্ত্রনার শেষ নেই। বেলকনিতেও নেই কোন বাতাস।

পেকুয়া বারবাকিয়ার ফরহাদ হোসেন জানান, গত ৩ দিন ধরে এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। তার মধ্যে এ অসহ্য গরম। এছাড়া কোথাও কোন বাতাস নেই। গাছের নিচে গিয়েও বাতাস পাওয়া যায়না।

রামু উপজেলার লিয়াকত হোসেন জানান, গত ২ দিন ধরে বাচ্চাদের নিয়ে সদর হাসপাতালে রয়েছে। তার ২ বাচ্চারই ডায়রিয়া হয়েছে। শুরু’তে তাদের অবস্থা খবুই খারাপ ছিল। এখন একটু সুস্থ্য।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, এ গরমে খুবই সাবধান থাকতে হবে। চেষ্টা করতে হবে অকারণে গরমে না যেতে। প্রচুর পরিমানে পানি খেতে হবে। পারলে ডাব আর গ্লোকোজ খেতে হবে। সচেতন থাকতে হবে খাবারের ব্যাপারে বাসি আর রাস্তার নোংরা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পড়তে হবে সুতির কাপড়। আর রোদে ছাতা, টুপি ও সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। এ অবস্থায় জনগণের প্রত্যাশা কখন বৃষ্টি নামবে। আর সবকিছু শীতল হবে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *