তিপ্রাল্যান্ড কি আরেক গোর্খাল্যান্ড হবে?



নিজাম উদ্দিন লাভলু, রামগড়(খাগড়াছড়ি)সংবাদদাতা:

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে তিপ্রাল্যান্ড নামে পৃথক একটি প্রদেশ প্রতিষ্ঠার দাবীতে আইপিএফটি (ইন্ডিজিনাস পিপলস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা) নামে একটি সংগঠন ত্রিপুরায় গত ১০দিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম চালাচ্ছে। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে আশঙ্কা ব্যাক্ত করে বলা হয়েছে তিপ্রাল্যান্ড কি গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের দিকে এগুচ্ছে?

এদিকে খাগড়াছড়িতে ‘বাংলাদেশ ত্রিপুরার্স’ ব্যানারে পৃথক তিপ্রাল্যান্ডের এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বৃহষ্পতিবার মানববন্ধন করেছে একদল স্থানীয় ত্রিপুরা উপজাতীয় নারী-পুরুষ।

কোলকাতা ও আগরতলার বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সূত্রে জানা গেছে, আইপিএফটি নামে একটি সংগঠন তিপ্রাল্যান্ড নামে পৃথক একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠার দাবীতে গত ১০ জুলাই অনির্দিষ্টকালের জন্য ত্রিপুরা রাজ্যে সড়ক ও রেল অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। ফলে সেখানে সড়ক ও রেল অবরোধের কারণে জনজীবন অচল হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, পৃথক তিপ্রাল্যান্ড প্রতিষ্ঠার দাবীতে আইপিএফটির ডাকা অনির্দিষ্টকালীন অবরোধ কর্মসূচির প্রতিবাদে বুধবার প্রদেশ কংগ্রেস ১২ঘন্টার ধর্মঘটের ডাক দেয়।

আইপিএফটির অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সংগঠনটির কর্মীরা নগ্ন হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ নিয়ে ত্রিপুরা রাজ্য জুড়ে ব্যাপক নিন্দার ঝড় উঠে। সেখানকার একটি ট্যাবলয়েট পত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম দেয়া হয়, ‘তিপ্রাল্যান্ড নাকি লেংটাল্যান্ড?’।

সংবাদে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনের নামে আইপিএফটির এ ধরণের অশালীন, অশ্লীলতায় সব মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, তিপ্রাল্যান্ড প্রতিষ্ঠার ইস্যু নিয়ে আইপিএফটি ভারতের কেন্দ্রিয় সরকার ও রাজ্যসরকারের সাথে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার দাবী জানালেও তাতেও সাড়া দেয়নি সেদেশের সরকার।

এদিকে ত্রিপুরায় নতুন করে পৃথক তিপ্রাল্যান্ড প্রতিষ্ঠার এমন দাবী উঠায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এনিয়ে সেখানকার সচেতন নাগরিকরা প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন।

আইটিএফের সভাপতি নরেন্দ্র চন্দ্র দেব বর্মা এই ইস্যুতে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের সাথে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, ভারতের ত্রিপুরায় আইপিএফটি’র পৃথক তিপ্রাল্যান্ড প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ও সংহতি জানিয়ে ২০ জুলাই বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি সদরে মানববন্ধন করেছে ত্রিপুরা উপজাতীয় নারী পুরুষরা। ‘বাংলাদেশ ত্রিপুরার্স’ ব্যানারে সকাল ১১টার দিকে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনে এডভোকেট শুভ্রদেব ত্রিপুরা, কলেজ ছাত্র নয়ন ত্রিপুরা, পানছড়ির মনিন্দলাল ত্রিপুরা ও রণ বিকাশ ত্রিপুরা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ভারতের ত্রিপুরায় পৃথক তিপ্রাল্যান্ড প্রতিষ্ঠার দাবীতে চলমান আন্দোলনের প্রতি পুর্ণ সমর্থন জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘এটা ন্যায় সঙ্গত ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন। বাংলাদেশের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী এ আন্দোলনের প্রতি সবর্দা সমর্থন দিয়ে যাবে।’

এদিকে ভারতের ত্রিপুরায় পৃথক তিপ্রাল্যান্ড প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলনের সমর্থনে খাগড়াছড়িতে শতাধিক ত্রিপুরা উপজাতীয় নারী পুরুষের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত খাগড়াছড়ির এডেভোকেট শুভ্রদেব ত্রিপুরা বলেন, মূল ত্রিপুরা ল্যাণ্ডের আয়তন ১০৪৯২ বর্গ কি.মি.। এর মধ্যে জেনারেল ল্যান্ড ৩৩৬৯.৩৫ বর্গ কি.মি.। এখানে বাঙালীসহ সবাই বাস করে। বাকি ৭১৩২.৬৫ বর্গ কি.মি. এলাকা ত্রিপুরা ট্রাইবাল অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের(টিটিএডিসি) মাধ্যমে শাসিত হয়।

এটি একটি স্বশাসিত এলাকা। এখানে ট্রাইবাল ছাড়া অন্য কেউ বসবাস করতে পারবে না- এমন সংরক্ষণ আইন রয়েছে। এই এলাকা অনুন্নত হওয়ায় ভারতের সংবিধান অনুযায়ী তিপ্রাল্যান্ড নামে পৃথক একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য এসি দেববর্মার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন আন্দোলন চলে আসছে। বাংলাদেশের ত্রিপুরারা সেই আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে মাত্র।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *