তিন প্রকল্পে ১০লক্ষ টাকার উন্নয়নের সুফল পান নি স্থানীয়রা


unnamed-1-copy

থানচি প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল(এডিপি)সহ তিনটি প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাই নি। ফলে গৃহিত প্রকল্প এলাকায় লোকজনের কাছে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এসব প্রকল্পে কাগজে কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে সব অর্থ ও খাদ্য শষ্য আত্মসাত করা হয়েছে বলে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এডিপি‘র  আওতায় মোট ছয়টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তার মধ্যে ২লক্ষ টাকায় রেমাক্রী ইউপির  একটি প্রকল্পের -‘মংম্যা পাড়া পাঠাগার নির্মাণ’। এ প্রকল্পের সভাপতি  মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বকুলি মারমা। তবে এখানে পাঠাগার নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও কোনো কাজ করা হয় নি।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ২০১৫ সালে সাধারণ কর্মসূচির আওতায় ৭মে.টন খাদ্য শষ্য বরাদ্দে রেমাক্রী গ্রুপিং পাড়া প্যাগোডায় ভিক্ষু সংঘে জন্য ক্যাংঘর সম্প্রসারণ নির্মাণের একটি প্রকল্প নেয়া হয়। কেজি ৩৬টাকা দরে সরকারি মূল্য যা আড়াই লক্ষ টাকার বেশি।

 উপজেলা পরিষদের ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো ও রক্ষনাবেক্ষন (টিআর)‘র আওতায় ২০১৪ সালে গ্রুপিং পাড়ার মাঝখানে বাধ নির্মাণ প্রকল্পের বিপরীতে ১৪মে.টন খাদ্য শষ্য বরাদ্দ নেয়া হয়। যার মূল্য ৫ লক্ষ টাকার বেশি। এ দু‘টি প্রকল্পে প্রায় ৮লক্ষ টাকায় উন্নয়নের কোনো অস্তিত্ব নেই।

সম্প্রতি সরেজমিনে গেলে পাড়াবাসীরা জানায়, প্রকল্প গ্রহণের কথা জানলেও এর বিপরীতে কত টাকা বা কি পরিমাণ খাদ্যশষ্য বরাদ্দ ছিল, তারা তা জানেন না। পাড়া প্রধান ফোসাচিং মারমা অভিযোগ করে জানান, এ প্রকল্পের কাজ কবে নাগাদ করবে, তা আমরা জানি না।

পাড়াবাসীরা আরও জানায়, ক‘বছর আগে পাড়ার ছড়ায় বাঁধ নির্মাণ করতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তার দেবর খ্যাইসিংমং‘কে দায়িত্ব দেয়ার কথা শুনা যায়। তবে বাস্তবে কাজ হয়নি। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের দেবর খ্যাইসিংমং মারমা বলে ভাইস চেয়ারম্যান বউদি বাঁধ নির্মাণ করতে আমাকে ২০হাজার টাকা দেন। ওই টাকায় বাঁধের  মাটি কেটেছিলাম। বাকিগুলি আমার জানা নেই।

এব্যাপারে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বকুলি মারমার সাথে মুঠোফোনে বেশ ক‘দিন ধরে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।  তবে প্রকল্প সার্বিক তত্তাবধানে দায়িত্বে থাকা এলজিইডি‘র উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মেজবাহ কবীর  জানান, মংম্যা পাড়া পাঠাগার কাজটির পরিবর্তে অন্যটি করা হয়েছে। সভার মাধ্যমে পরিবর্তন করা প্রকল্পটির নাম অফিসে সংরক্ষিত সভার বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা জানান, উপজেলা সব প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। কোথাও কোন কাজ করে নি তা প্রমান করতে পারলে পুরস্কৃত করবেন বলেও জানান তিনি।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *