তিন পার্বত্য জেলায় ১২শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন


এরপরও পাহাড়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই এলাকার উন্নয়নে সরকার কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না

%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a7%9f%e0%a6%a8

ফিরোজ মান্না ॥

তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে) গত তিন বছরে বিভিন্ন সংস্থা ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৮১৮টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। পার্বত্য জেলায় সরকারের বাইরে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানও উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছে। এরপরও পাহাড়ীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই এলাকার উন্নয়নে সরকার কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না। শান্তি চুক্তির কোন কিছুই বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘দ্বিতীয় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্টের (এলজিএসপি-২)’ মাধ্যমে গত তিন বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থাস্থ্য, পানি সরবরাহ, শিক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বান্দরবানে ২২ কোটি ৮৯ লাখ, খাগড়াছড়িতে ২৪ কোটি ৩ লাখ, রাঙ্গামাটিতে ৩৩ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক বলেন, তিন পার্বত্য জেলার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। অন্য যে কোন জেলার তুলনায় পার্বত্য জেলায় টাকা বরাদ্দের পরিমাণ বেশি। এরপরও উপজাতি নেতৃবৃন্দ সব সময় অভিযোগ করে আসছে পার্বত্য এলাকায় উন্নয়ন কাজ হচ্ছে না। সরকার চুক্তির কোন কিছু বাস্তবায়ন করছে না। অথচ চুক্তির বেশির ভাগ ধারাই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকিগুলোও বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

আমরা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ উইং থেকে পার্বত্য জেলার ৫৪টি ইউনিয়নে পরিষদে গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য এজলাস নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ৬টি পৌরসভায ৪১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার উন্নয়ন সহযোগিতা দেয়া হয়েছে।

তিন পার্বত্য জেলার ২৫টি উপজেলায ১২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এত টাকা সমতলের কোন জেলায় বরাদ্দ দেয়া হয়নি। শুধু স্থানীয় সরকার বিভাগ পার্বত্য জেলায় উন্নয়ন কাজ করে না, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সেখানে মূল কাজ করে। এর বাইরে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও উন্নয়ন করা হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানিযেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) কর্তৃক ৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৩২ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ব্রিজ কালভার্ট ৮১৬৫ দশমিক ৪৫ মিটার, রবার ড্যাম ১০৮ মিটার নির্মাণ করা হয়েছে। এর বাইরে বাজার, গ্রোথ সেন্টার, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, মাটির রাস্ত, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে।

তিন পার্বত্য জেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলায় রিংওয়েল স্থাপন করা হয়েছে ৯৩৮টি, নলকূপ ৫৯৮টি, ইৎপাদক নলকূপ ২টি, পাম্প ২টি, পাইপ লাইন ৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার। বর্তমানে গ্রামীণ পানি সরবরাহ কভারেজ ৩২ দশমিক ২ শতাংশ। খাগড়া ছড়িতে রিংওয়েল ১৫১৭টি, নলকূপ ১৪০৫টি, রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ১৫টি, উৎপাদক নলকূপ ১২টি, পাম্প হাউস ১২টি, পাইপ লাইন ১৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার স্থাপন করা হয়েছে।

বর্তমানে এই জেলায় গ্রামীণ পানি সরবরাহ কভারেজ ৩৯ দশমিক ৮৯ ভাগ। বান্দরবানে রিংওয়েল ১৩৫৩টি, নলকূপ ৬৬৮টি, পানি শোধনাগার ৭টি, পাইপ লাইন ৪৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই জেলায় গ্রামীণ পানি সরবরাহ কভারেজ ৪৯ দশমিক ২০ ভাগ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বি¡ক প্রথা ও ভাষার বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ৩ পার্বত্য জেলায় ৪৫ হাজার ৪৯৯ মিটার সেচনালা, ৭ হাজার ২৬৫ মিটার ড্রেন, এক লাখ ৮৯৯ মিটার জলাধার, ১৫০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ, ১৭৭টি স্কুল ভবন, ১০টি কলেজ ভবন নির্মাণ, ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো হিসাবে ৭০ হাজার ৫২ বর্গমিটার ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ৩ হাজার ১৮০টি পাড়া কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে তিন জেলায় ২ হাজার ৪৫০ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ, ৮ হাজার মিটার ড্রেন, ১০ হাজার মিটার সেতু, ২ হাজার ২০০ মিটার কালভার্ট, ৪০ হাজার বর্গমিটার স্কুল ভবন নির্মাণ, ৬ হাজার ৫শ’ বর্গমিটার কলেজ ভবন, ২ হাজার বর্গমিটার ছাত্রাবাস ভবন নির্মাণ করা হবে। ৭০ হাজার মিটার সেচনালা, ২ হাজার ৫শ’ মিটার ড্যাম ক্রিক নির্মাণ, ৩শ’ পাওয়ারটিলার ও এক হাজার পাম্প স্থান করা হবে।

অন্যদিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তিন পার্বত্য জেলায় পাকা সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে।

সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *