তিন পার্বত্য জেলার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে চার শ’ কোটি টাকার প্রকল্প


পার্বতনিউজ ডেস্ক:

জাতিসঙ্ঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনিসেফের আর্থিক সহায়তায় দেশের তিন পার্বত্য জেলার ১২১টি ইউনিয়নের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তৃতীয় দফায় প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০৫ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষাধিক শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান, প্রায় দুই লাখ পরিবারের শিশু, কিশোর ও মহিলাদের অপুষ্টিজনিত ঘাটতি হ্রাস করা হবে বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিসেফের আর্থিক সহায়তায় রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় ২৬টি উপজেলার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো হবে। ২০২১ সালের মধ্যে পার্বত্য এলাকার সাড়ে চার হাজার পাড়া কেন্দ্রের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় বসবাসরত শিশুদের মৌলিক সেবা প্রদান করা হবে। দুর্গম এলাকায় বসবাসের কারণে তারা অনেক মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ জন্য এক লাখ সাড়ে সাত হাজার শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হবে। এক লাখ ৮০ হাজার পরিবারকে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষায় সচেতন করা হবে। এ প্রকল্পেও ৯জন পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১১ সালের আদমশুমারি ও গৃহগণনা প্রতিবেদনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য অ্যাথনিক পপুলেশন শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ২৭ ধরনের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে থাকে। এদের মধ্যে চাকমা (৪,৪৪,৭৪৮ জন), মারমা (২,০২,৯৭৪ জন), ত্রিপুরা (১,৩৩,৭৯৮), ¤্রাে (৩৯,০০৪ জন), তঞ্চ্যঙ্গা (৪৪,২৫৪ জন), বম (১২,৪২৪ জন), পাঙ্খুয়া (২,২৭৪ জন), চাক (২,৮৩৫ জন), খিয়াং (৩,৮৯৯ জন), খুমি (৩,৩৬৯ জন), লুসাই (৯৫৯ জন), কোচ (১৬,৯০৩ জন), সাঁওতাল (১,৪৭,১১২ জন), ডালু (৮০৬ জন), উসাই (৩৪৭ জন), রাখাইন (১৩,২৫৪ জন), মণিপুরি (২৪,৬৯৫ জন), গারো (৮৪,৫৬৫ জন), হাজং (৯,১৬২ জন), খাসিয়া (১১,৬৯৭ জন), মং (২৬৩ জন), ওঁরাও (৮০,৩৮৬ জন), বর্¤§ন (৫৩,৭৯২ জন), পাহাড়ি (৫,৯০৮ জন), মালপাহাড়ি (২,৮৪০ জন), মুণ্ডা (৩৮,২১২ জন) ও কোল (২,৮৪৩ জন)। এদের মধ্যে গুচ্ছ আকারে সর্বাধিক ১১ ধরনের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কমিউনিটি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প নামে ১০ বছর মেয়াদ একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। বাস্তবায়ন ব্যয় ছিল প্রায় ২৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে সাড়ে ২০ কোটি টাকাই ছিল প্রকল্প সহায়তা। ওই প্রকল্পের সফলতার পর ২২৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প নেয়া হয়, যা তিন দফা সংশোধনের মাধ্যমে ২০১২ সালের জুনে শেষ হয়। এ পর্যন্ত এসব কর্মসূচির আওতায় সাত লাখ মানুষকে সেবা প্রদান করা হয়। এখন ইউনিসেফের কিছু আর্থিক সহায়তায় তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।

এ প্রকল্পে আবাসিক বিদ্যালয়ে এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর খাদ্য সরবরাহ, তাদের পোশাক পরিচ্ছদ ও শিক্ষার উপকরণ দেয়া, ১৬০ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে বেতনভাতা প্রদান এবং বৃত্তিমূলক ও কারিগরি কোর্সের উপকরণ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের আইএমইডির দ্বিতীয় পর্যায়ের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলগুলোতে আরো চার হাজার পাড়াকেন্দ্র স্থাপন করা দরকার। আর কিছু দুর্গম এলাকায় টিকাদান কর্মসূচির বিস্তৃতি আশানুরূপ নয় এবং এখানে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো খুবই কঠিন। অর্থ বিভাগের জনবল নির্ধারণ কমিটির প্রতিবেদনে পাড়াকর্মী ও মাঠ সংগঠকের সম্মানী এবং আবাসিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতনভাতা সুপারিশকৃত নয়। প্রকল্পের আওতায় সাড়ে চার হাজার জন পাড়াকর্মী এবং ৪৫০ জন মাঠ সংগঠকের সম্মানী এবং ১৬০ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতনভাতা প্রদানে যেন কোনো রকম বিঘ্ন না হয়, সে জন্য অর্থ বিভাগের সম্মতি নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

 

সূত্র: নয়াদিগন্ত

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *