টেকনাফ দিয়ে মিয়ানমার হতে গরু আসছে বাংলাদেশে


Teknaf Pic 2jpg

কক্সবাজার প্রতিনিধি :
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসছে শতশত গবাদিপশু। এছাড়া টেকনাফ, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে অনেক গবাদি পশু মজুদ রয়েছে। ভারত থেকে গরু না আসলেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক পশু আসছে বাংলাদেশে। টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোর হয়ে গত কয়েকদিনেই এসেছে পাঁচ হাজারের বেশি গরু, মহিষ ও ছাগল।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততোই বাড়ছে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি পরিমাণ। দামও রয়েছে স্বাভাবিক পর্যায়ে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ হওয়ার পর ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে পশু আমদানির দিকে ঝুঁকেছেন।

টেকনাফস্থ শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট ঘুরে দেখা যায়, মিয়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে দেশে আসছে গরু, মহিষ ও ছাগল। ট্রলারযোগে ব্যবসায়ীরা আমদানি করছেন এসব পশু। কোরবানির ঈদের পূর্বে আরো ২০ হাজারের বেশি পশু আমদানি করা হবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়াও ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি ব্যয় কম হওয়ার কারণে এসব পশুর দামও স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।

মিয়ানমার থেকে গরু ও মহিষ আমদানিকারক জিয়াফত উল্লাহ জানান, যেভাবে গরু মিয়ানমার থেকে আসছে এতে গরুর দাম স্বাভাবিক থাকবে। এখনো মিয়ানমার থেকে গরু এনে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে গত বছরের দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

tecnaf 1

গরু ব্যবসায়ী আবদুর রহিম জানান, কোরবানি উপলক্ষে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি ক্রমাগত বাড়ছে। এসব পশুর মূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানো হচ্ছে এসব পশু।

শাহপরীর দ্বীপ স্কুল মাঠে গরু কিনতে আসা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, গত বছর প্রতিটি বড় গরু ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় কিনেছি। বতর্মানেও বড় গরু ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রামের গরু ব্যবসায়ীরা জানান, পশু আমদানির ক্ষেত্রে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি হলে দেশে কোনো সংকট থাকবে না। এছাড়াও ভারতের ওপর পশু আমদানির ক্ষেত্রে নির্ভরশীল হতে হবে না। তাই সরকারের উচিত পশু আমদানির ক্ষেত্রে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়ন করা।

টেকনাফ স্থল বন্দর কাস্টমস কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির জানান, জুলাই মাসে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে ৪২৫টি গরু, ৭১০টি মহিষ এবং ৭টি ছাগল আসে। আগস্ট মাসে ১ হাজার ৯৫৪ টি গরু, ১০৬২ টি মহিষ ও ৩৮ টি ছাগল আমদানি হয়েছে। তিনি আরও জানান, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শাহপরীর দ্বীপ করিডোর হয়ে ৫ হাজারের অধিক গরু, মহিষ ও ছাগল মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হয়েছে। এসব পশু থেকে রাজস্ব আদায় করা হয়েছে প্রায় ২১ লাখ টাকা। কোরবানির মৌসুমে গত বছর মিয়ানমার থেকে পশু আনা হয় ১৫ হাজারের মত।

টেকনাফের গবাদিপশু ব্যবসায়ী টেকনাফ সদর ইউপির মেম্বার আবু ছৈয়দ বলেন- বর্তমানে শাহপরীর দ্বীপ ক্যাডল করিডোরে শত শত গবাদি পশু এবং টেকনাফ, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপ ব্যবসায়ীদের কাছে প্রচুর সংখ্যক গবাদি পশু বিক্রির অপেক্ষায় মজুদ রয়েছে। কিন্তু ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখনও ব্যবসায়ীগণ টেকনাফে আসেননি। এবছর কোরবানির পশু সংকট হবে বলে মনে হয়না। পশু আমদানি, বিক্রি, পরিবহন ইত্যাদিতে কোন সমস্যা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

টেকনাফ সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বলেন, শুধু শাহপরীর দ্বীপ কেবল করিডোরেই ৫০০ এবং টেকনাফ, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপ ব্যবসায়ীদের কাছে কয়েক হাজার গবাদি পশু বিক্রির অপেক্ষায় মজুদ রয়েছে।

এদিকে বেশি মুনাফার আশায় টেকনাফের কিছু কিছু ব্যবসায়ী গবাদিপশু মোটাতাজা করণে চরম ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে। কৃত্রিম উপায়ে স্বল্প সময়ে পশু মোটা তাজা করণে ব্যবহার করা হচ্ছে এক ধরনের ওষুধ। তবে ব্যবসায়ীরা গরু মোটা তাজা করণে কোন ইনজেকশন বা ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছেনা বলে দাবি করেন। অনেকেই দাবি করেন, খড়, ভূষি দিয়ে গরুর খাবার যোগান দেয়া হচ্ছে। তা ছাড়া গবাদি পশু মোটা তাজা করণে ৬/৭ মাস পূর্ব থেকে প্রস্তুত নেয়া হয় বলে দাবি করেন তারা।

টেকনাফে সরকারিভাবে বড় ধরনের কোন খামার বা পশু মোটা তাজাকরণ প্রকল্প না থাকলেও গ্রাম-গঞ্জে স্বল্প আয়ের মানুষগুলো বাড়তি লাভের আশায় কোরবানীর ঈদের ৬/৭ মাস পূর্ব থেকে পশু মোটা তাজা করতে টাকা বিনিয়োগ করেন।

উপজেলা পশু হাসাপাতালের ডা. আব্দুর রহীম জানান এক সময় ডেক্সা মেথাসন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানোর প্রচলন ছিল। এ ওষুধ সেবনের ফলে পশুর মাংস দ্রুত বৃদ্ধি হলেও জীবন বিপন্ন হত। তিনি জানান প্রাণি সম্পদ বিভাগ থেকে খামারীদের এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় তাদের বিপদজনক পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর জানান, দানাদার খাদ্য যেমন খৈল, ভূষি ও ক্ষুদ কুঁড়ার দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তারপরও গত বারের চেয়ে দাম ভাল পাওয়ার আশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেশ উজ্জীবিত। আগে পশু মোটা তাজাকরণে ক্ষতিকর ইনজেকশন ব্যবহার করা হলেও পশু হাসপাতালের নজরদারির কারণে এখন আর কেউ ইনজেকশন ব্যবহার করেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *