টেকনাফে বাঙ্গী চাষীদের মুখি হাসি


teknaf pic 22-4-15 (1)

মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, টেকনাফ:
টেকনাফে চলমান অবরোধ হরতালে অন্য চাষের সিংহভাগ কৃষক লোকসানে থাকলেও বাঙ্গী বা ফুতি ক্ষেত করে কৃষকরা কিন্তু লাভের মুখ দেখেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিন্ন চাষে নিযুক্ত কৃষকদের ক্ষেতে উৎপাদিত পণ্য বিক্রিতে প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হয়েছে। এতে অন্য কৃষকদের মুখে হতাশা দেখা দিলেও বাঙ্গী বা “বাংকী গোলা” চাষীদের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। অত্যাধিক সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকরী ফল হওয়ায় বাঙ্গীর বাজারে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।

অল্প সংখ্যক কৃষক এচাষে জড়িত, চাহিদার তুলনায় এখানকার উৎপাদিত ফল যথেষ্ট বলেই কৃষক সাধারণ যথাযথ মূল্য পাচ্ছেন বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন। সঠিক মাত্রায় পরিচর্যা করতে পারলে বাঙ্গী ক্ষেত করে কৃষকরা অধিকহারে লাভবান হতে পারে। অন্য চাষের মত এচাষে তেমনটি ঝুঁকি নেই বলে গ্রামীণ কৃষক-কৃষাণী এ প্রতিবেদককে জানান। চলতি মৌসুমে চাষীরা এক্ষেত করে কৃষকদের মাঝে রীতিমত হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন। তরমুজের চাইতে বাঙ্গীতে কম খরচ এবং চাহিদা বেশী হওয়ায় আগামীতে কৃষকরা এ চাষে ঝুঁকে পড়তে পারেন বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।

কৃষি অধিদপ্তর প্রতি বছর মাঠ পর্যায়ে বেশী বেশী কৃষি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে গ্রামীণ কৃষি ও কৃষক আরো বেশী লাভবান হতে পারে মন্তব্য করে পানখালী এলাকার কৃষক আব্দুর রকিম বলেন, এবছর মাত্র ৩০/৩৫ হাজার টাকা খরচায় বাঙ্গী ক্ষেত করে আমি ২লক্ষাধিক টাকা পেয়েছি। সিকদারপাড়া এলাকার কৃষক রশিদ ৬০শতক জমিতে ১৫হাজার টাকা খরচে বাঙ্গী ক্ষেত করে দেড় লক্ষাধিক টাকা পেয়েছেন।

অপরদিকে লেচুয়াপ্রাং এলাকার শফিক ২০হাজার টাকা খরচায় ১শ শতক জমিতে চাষ করে দেড় লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, এবছর বাঙ্গী ক্ষেত অনেক কৃষক পরিবার সহজে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছেন।

কৃষক সূত্র জানায়, বাংঙ্গী চাষে প্রতি কানি বা ৪০শতক জমিতে ৭-৮হাজার টাকা খরচ পড়ে। কানি প্রতি ২০কেজি ইউরিয়া, ২০কেজি টিএসপি, ১০কেজি এমওপি ও ১কেজি ফুরাডান সহ সর্বসাকুল্যে ১১শ টাকা খরচে সার প্রয়োগ করা যায়। ১দিন পর পর জমিতে সেচ দিয়ে ১০০-১২০ দিনের মধ্যে এ ফল বিক্রির উপযোগী হয়। এবছর টেকনাফের চাষীরা ক্ষেতে স্থানীয় জাত নাম তার “পাশাপাশী” বাঙ্গী (ফুতি)’র বীজ বপন করেছেন।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার হ্নীলার পানখালী, লেচুয়াপ্রাং, খন্ডাকাটা, মরিচ্যাঘোনা, হোয়াইক্যংয়ের রইক্ষ্যং, কম্বনিয়াপাড়া, ডেইগ্যাকাটা, বাহারছড়ার জাহাজপুরা, মাথাভাঙ্গা, কচ্ছপিয়াপাড়া, নোয়াখালীয়া পাড়া সহ বিচ্ছিন্ন কিছু গ্রামে কৃষক সনাতন পদ্ধতিতে এক্ষেতের চাষ করে কল্পনাতীত সাফল্য পেয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত জাত সম্পর্কে ধারণা ও চাষে উদ্ধুদ্ধ করলে গ্রামীণ কৃষকরা আরো বেশী লাভবান হবে। কৃষকদের অনেকে বলেন, আসলে কৃষি অধিদপ্তরের লোকজন কৃষি উন্নয়নের দোহাই দিয়ে বড় গলায় কথা বলে মুখে শুধু ফেনা তুলেন। এখানে তারা কাজের কাজ কিছুই করেন না। কৃষকরা প্রশিক্ষণ বিহীন একে অপরের দেখাদেখিতে চাষ করে উপকৃত হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিউল আলম জানান।

এদিকে, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোঃ জামাল উদ্দিন চলতি কৃষি মৌসুমে বাঙ্গীর আশাতীত ফলন ভাল হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, গ্রামীণ কৃষকরা যখনই পরামর্শ চাচ্ছেন তখনই আমরা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তবে তিনি মাঠ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত কৃষি ক্লাব সক্রিয় করা ও বেশী বেশী উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উপর গুরুত্বারোপ করেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *