টাঙ্গাইলে হিন্দু পরিবারের আট সদস্যের ইসলামগ্রহণ


103854_1ডেস্ক রিপোর্ট:
টাঙ্গাইলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ঋষি সম্প্রদায়ভুক্ত এক পরিবারের আট সদস্যের সবাই পবিত্র ইসলাম গ্রহণ করেছেন।এ ঘটনা টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দয়াকান্দি গ্রামের খগেন ঋষির পরিবারের। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তারা আট সদস্য দুই সপ্তাহ আগেও হিন্দু ধর্মাবলম্বী ঋষি সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। এখন তারা ওই এলকার নও মুসলিম পরিবার।

গত ১ মার্চ পরিবারের সব সদস্য টাঙ্গাইলের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।ইসলাম গ্রহণের পরই তাদের বাড়িতে লেগে আছে উৎসুক জনতার ভিড়। নও মুসলিম পরিবারটি গ্রামের পুরানো বাসিন্দা হলেও তাদের নতুন করে দেখছে গ্রামবাসী।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফরমান খান তাদের থাকার জন্য কিছু জমি দান করেছেন। সেই জমিতেই তারা ঘর নির্মাণ করেছেন।পরিবার প্রধান খগেন ঋষি বলেন, আমার পরিবারের আট সদস্যই হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

খগেন ঋষি (৫০) তার নাম পরিবর্তন করে  আবদুর রহমান নাম রেখেছেন। একইভাবে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। খগেনের স্ত্রী পূর্ণি ঋষি (৪২) এখন ফাতেমা বেগম, বড় ছেলে কার্তিক ঋষি (৩২) আবদুল্লাহ, মেজো ছেলে মিলন ঋষি (২৫) জাহিদুল ইসলাম, ছোট ছেলে সুশান্ত ঋষি (১০) নাসির উদ্দিন, মেয়ে শিলা ঋষি (৮), মরিয়ম খাতুন, বড় ছেলে কার্তিকের স্ত্রী লক্ষ্মী ঋষি (২২) আয়েশা খাতুন এবং তার মেয়ে সোনালী ঋষি (৫)-এর নাম পরিবর্তন করে আমেনা বেগম রাখা হয়েছে।

নও মুসলিম আবদুর রহমানের ছেলে আবদুল্লাহ জানান, তিনি ৫ বছর দুবাই প্রবাসী ছিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। প্রবাস থেকে ফিরে এসে তিনি তার পরিবারের সকল সদস্যকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে উৎসাহিত করেন।

তার ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইল নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে পরিবারের সব সদস্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।এ উপলক্ষে গত শুক্রবার গ্রামবাসী ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা  এ পরিবারটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। উপজেলার পাকুটিয়া বটতলা মসজিদের ইমাম মওলানা ইউসুফ আলী তাদের কালেমা পাঠ করান।

একই সঙ্গে ওইদিন দিন পরিবারের পুরুষ সদস্যরা স্থানীয় মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। বিবাহিত দম্পতিদের ইসলাম ধর্মীয় রীতি অনুসারে পুনঃবিবাহ পড়ানো হয়। নও মুসলিম আবদুল্লাহ ইসলামের অনুশাসন পালনে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *