parbattanews bangladesh

জমি জবরদখল হুমকিতে আতঙ্কে কৃষক পরিবার

পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় মিথ্যা মামলা, ভোগদখলীয় জমি জবরদখল চেষ্টা, চাঁদাদাবী ও হত্যার হুমকিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে কৃষক পরিবার। সম্প্রতি বারবাকিয়া ইউনিয়নের পূর্ব জালিয়াকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এনিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুক্তভোগি কৃষক পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে। শুক্রবার (১০আগস্ট) পেকুয়া রিপোর্টাস ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কৃষক পরিবারের পক্ষে মৃত আছাব মিয়ার পুত্র আবুল শরীফ ও তার পুত্র নুরুল হোছেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা উল্লেখ করেন, পূর্ব জালিয়াকাটা এলাকার মৃত আশরাফজাম্মানের পুত্র মোজাম্মেল হক তার পুত্র মো. বাহাদুর, আবুল কাশেম, আবু হানিফ, আনছার আলী ও মো. সেলিমের নেতৃত্বে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। এছাড়া একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী আবুল শরীফ বলেন, আমরা দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় ৮২১ খতিয়ানের ২৩১৮ দাগের আন্দর ১৬.০৭ শতক জমি প্রাপ্ত হই। যা স্থানীয় শালিসকারক টইটং ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এম শহিদুল্লাহ, ইসলাম নুর, মুসলিম শাহ ও ছাবের আহমদ দীর্ঘ শুনানী শেষে তাদের যৌথ সাক্ষরিত সালিশী রোয়েদাদ আমার পক্ষে প্রচার করে এবং জমি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেন। এছাড়াও উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. বারেকের নেতৃত্বে উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশী রোয়েদাদ আমাদের পক্ষে প্রচার করেন। কিন্তু উল্লেখিত ব্যক্তিরা তা অমান্য করে আমাদের জমি জবর দখল করতে গিয়ে আমাদের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। আমরা উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চকরিয়া আদালতে মামলা দায়ের করি। মামলাটি পেকুয়া থানার ওসি মহোদয়ের কাছে আসলে তিনি পেকুয়া থানার অত্যন্ত সৎ অফিসার বিপুল চন্দ্র রায়কে তদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি একে একে কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনপূর্বক কয়েকজন সাক্ষীদের সাথে কথা বলেন। তিনি দীর্ঘ তদন্তপূর্বক মোজাম্মেল হক, বাহাদুর, আনছার আলী, কায়ছার আহমদের বিরুদ্ধে ঘটনা সংঘঠিত করার প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এরপর থেকে তারা আরও বেশি জোরালো চক্রান্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় এম.আর ১১২/১৭ ও ৬০০/১৮ নং মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করে। এরপরও তারা ক্লান্ত না হয়ে আমাদের জমি জবর দখল করার জন্য ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে জমি চাষবাদে ব্যাপক অসুবিধা সৃষ্টি করে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আমাদের পিতা-পুত্রকে প্রাণে হত্যার মত ঘটনা সংঘঠিত করবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। এছাড়াও পেকুয়া থানার বিপুল চন্দ্র রায় ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন ও সাক্ষী প্রমাণ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ায় তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা সংবাদ পরিবেশেনের হুমকি দিচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা। তারা আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে ২লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে হামলা ও বসতবাড়ি ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করবে মর্মে হুমকি দেয়। যার কারণে আমরা চরম আতঙ্কে দিনানিপাত করছি। এবিষয়ে আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় থানা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।