পানছড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন আহত


নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা সদরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজির হোসেন গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর পরই বিক্ষুব্ধ লোকজন পানছড়ি সদরের বেশ কয়েকটি বাড়ি ঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে পানছড়ি বাজারের প্রধান সড়কে হাদিস মিয়ার চা দোকানে বন্ধুদের সাথে চা পান করার সময় অজ্ঞাতনামা দূর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তার বাম হাত ও পিঠে গুলি লাগে। এটি ছররা গুলি বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুরুতর আহত নাজির হোসেনকে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: সুমেন চাকমা জানান, তার প্রেসার অনেক কমে গেছে। ভিতরে বুলেট রয়েছে তাই উন্নতর চিকিৎসার জন্য সদরে প্রেরণ করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়ন ময় ত্রিপুরা জানান, আহত নাজির হোসেন শংকামুক্ত।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষনিকভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় বিক্ষোভকারি কয়েকজন টিএন্ডটিতে দুটি বাড়ির ঘেরাও বেড়া ভাংচুর করে। তবে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে নামলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এ ব্যাপারে পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো: বাহার মিয়া জানান, অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা এখনো কাউকে সন্দেহ করছি না। তবে সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

খাগড়াছড়ি জেলা যুবলীগ সভাপতি যতন কুমার ত্রিপুরা এবং সাধারণ সম্পাদক কেএম ইসমাইল হোসেন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন।

পানছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, কে বা কাহারা এ ঘটনা ঘটাতে পারে তা আমরা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনো কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি বলেও তিনি জানান।

পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আলম জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন সন্ধ্যায় পানছড়ি বাজারে হাদিসের চা দোকানে চা খেতে যান। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করে। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ইউপিডিএফ এর খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক মাইকেল চাকমা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি সরকারি দলের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে ঘটে থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *