চারদিনের ব্যবধানে রাঙামাটি শহরে আবারো পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় আহত ২


 
আলমগীর মানিক,রাঙামাটি:
মাত্র চারদিনের মাথায় আবারো পুলিশের গাড়িতে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে আকাশ নামে সাত বছরের এক শিশু। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন প্রধান সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিশুর নাম আকাশ (৭)। সে দিন মজুর অলেক মিয়ার একমাত্র ছেলে। দুই ভাই বোনের মধ্যে সে বড়। তারা শহরের এসপি অফিস সংলগ্ন নীছের রাস্তায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে বলে জানা গেছে।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার বিকেল তিন টার সময় শহরের উন্নয়ন বোর্ড ভবনের সামনের সড়কে সাত বছরের শিশু আকাশ রাস্তার ডান পাশ দিয়ে হেটেঁ যাচ্ছিল, এমন সময় কালো রংয়ের পুলিশের একটি পিকআপ বিপরীত দিক থেকে রং সাইডে এসে আকাশকে আঘাত করলে এতে করে সে প্রায় তিনফুট দুরে ছিটকে রাস্তায় পড়ে থাকা গাছের গুড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে চা খেতে থাকা পুলিশ কনষ্টেবল মোখলেছ তাকে উদ্ধার করে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। আকাশের পায়ে হাটুর নীচে আঘাত লেগেছে বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান।
 
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় পায়ে মারাত্মক আঘাত প্রাপ্ত শিশু আকাশ ব্যথায় ও ভয়ে বারবার চিৎকার করে কাদঁছে। এদিকে পুলিশের গাড়িটির নাম্বার জানা নাগেলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পুলিশের গাড়িটি প্রায় সময় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর প্রটেকশন ডিউটিতে ব্যবহার হয়ে থাকে। আর এই গাড়ির ড্রাইভার জেলা পুলিশে কর্মরত। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, গাড়িটি শিশুটিকে আঘাত করার পর শিশুটি যখন রাস্তার উপর পড়ে কাতরাচ্ছিল তারপরও গাড়ির ড্রাইভার গাড়ি থেকে নীচে নামেন নি। পরে তাৎক্ষণিকভাবে চায়ের দোকান থেকে পুলিশেরই আরেকজন কনষ্টেবল মোখলেছ তাড়াতাড়ি ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। উল্লেখ্য মাত্র চারদিনের মাথায় শহরের পুলিশের গাড়িতে দুইজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
 
গত শুক্রবার দিবাগত রাত নয়টার দিকে রাঙামাটি শহরে বেপরোয়া গতির পুলিশ বহনকারি ভ্যান গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে সাদ্দাম হোসেন (২১) নামের এক যুবক। ঘটনার পরপরই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় মাথায় ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত এই যুবককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহত যুবক সাদ্দাম হোসেন শহরের কাঠাঁলতলী এলাকার সিরাজুল ইসলামের বড় সন্তান। সে রাঙামাটি সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র বলে জানা গেছে। তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, চারদিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে, নিভির পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনও জ্ঞান ফেরেনি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার বমি করেছে সে।
 
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিজেদের মধ্য থেকে চাদাঁ তোলে ত্রিশ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে সাদ্দামের পরিবারকে। তারপরও সাদ্দামের চিকিৎসার সবরকম সহযোগিতা প্রদানের কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা। এদিকে পর্যটন শহর রাঙামাটি সদরের একটি ছোট্ট শহরে প্রশাসনিক বাহিনীর গাড়ি গুলোর বেপরোয়া গতির চলাচলে উদ্দিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকসহ সচেতন মহল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বেশ ক’জন সিএনজি ড্রাইভার অভিযোগ করেন বিভিন্ন বাহিনীর বেশ কয়েকজন ড্রাইভার রয়েছে যারা শহরের অভ্যন্তরে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়, ভয়ে তাদেরকে কিছু বলাও যায়না। বললে গাড়ি নামিয়ে চড়থাপ্পর মারার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেওয়া হয়। এসব ব্যাপারে তারা প্রসাশনের উদ্বর্তন কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
 
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *