চকরিয়া মাতামুহুরীর ভাঙন রোধে পাউবো’র টেকসই প্রকল্প: সুফল পাবে লক্ষাধিক জনগণ


চকরিয়া প্রতিনিধি:

চকরিয়া উপজেলার বরই তলী ইউয়িনের বাঘ গুজারা রাবারড্যাম পয়েন্টে তিনশত মিটার ও মেহের নামা অংশে একশত মিটার এলাকা জুড়ে মাতামুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। অব্যাহত নদীর ভাঙন ঠেকাতে পাউবো ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স শহীদ ব্রাদাসকে কার্যাদেশ দেয়ার মাধ্যমে ডিসেম্বর মাসে নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে বসানো হচ্ছে ৬০ হাজার পাথরের তৈরি আরসিসি ব্লক।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গেল দুই মাসে পাউবোর প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে গুনগত মানের উপকরণ ব্যবহার করে ইতোমধ্যে ২০ হাজার ব্লক তৈরি শেষ হয়েছে। আগামী মাসে শেষ হবে অবশিষ্ট ব্লক তৈরির কাজ। আগামী এপ্রিল মাসে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে নির্মিত এসব ব্লক ডাম্পিং (বসানো) হবে।

চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ ইলিয়াছ এমপির প্রচেষ্টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ভাঙ্গন রোধে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ায় চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের আশার সঞ্চার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়জন প্রতিনিধিদের অভিমত, ভাঙ্গন ঠেকাতে তীর সংরক্ষণ কাজে আরসিসি ব্লক বসানোর কারণে নদীর ভাঙ্গনের কবল থেকে জনগণের সম্পদ রক্ষা করা যাবে একই সাথে প্রতিবছর বর্ষাকালে বন্যার তাণ্ডব থেকে জনদুর্ভোগ মুক্ত থাকতে পারবে জনসাধারণ।

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা গোবিন্দপুরে (বাঘগুজারা রাবার ড্যাম পয়েন্টে) তিনশত মিটার ও পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা অংশে একশত মিটার এলাকায় ৬০ হাজার পাথরের তৈরি আরসিসি ব্লক দ্বারা মাতামুহুরী নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দুই মাসে প্রকল্পের কাজ শুরুর পর ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার ব্লক তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে অবশিষ্ট ব্লক তৈরির কাজ শেষ হবে। আশা করি এপ্রিল মাসে তীর সংরক্ষণে তৈরিকৃত ব্লকডাম্পিং (বসানো) করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের তদারকি করছেন চকরিয়া বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জিয়া। তিনি বলেন, প্রকল্পটি যেহেতু আমার এলাকায়, সেহেতু কাজটি গুনগতমানের এবং টেকসই ভাবে সম্পন্ন করতে আমি নিয়মিত তদারকি করছি। কার্যাদেশ অনুযারী তীর সংরক্ষণ কাজে পাঁচশত মিটার এলাকায় ৬০ হাজার পাথরের আরসিসি ব্লক বসানো হবে। আশা করি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়ে গেলে চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার অন্তত লক্ষাধিক জনসাধারণ সুফল পাবে।

নিউজটি চকরিয়া বিভাগে প্রকাশ করা হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *