চকরিয়ায় ৯০ ঘনফুট গর্জন গাছ ভর্তি ডাম্পার জব্দ


চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় গর্জন গাছ কেটে ডাম্পার ভর্তি করে পাচারের সময় জব্দ করেছে বনবিভাগ। এসময় বনদস্যুরা বনকর্মীদের কাছ থেকে গাছভর্তি ডাম্পার গাড়িটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এমনকি তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ব্যারিকেড দেয়। তবে বনবিভাগের বেশ তৎপরতার মুখে বনদস্যুরা পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে খুটাখালী মেদাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্কের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, বনদস্যু ও চোরাকারবারি মাহবুবুর রহমান মাহবুব কোম্পানি তার মালিকানাধীন ডাম্পার গাড়ি ভর্তি করে এসব গর্জন গাছের টুকরো অন্যত্র পাচার করছিল। গর্জন গাছের এসব টুকরো বৃহস্পতিবার ভোররাতে মেদাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্ক এলাকা থেকে কাটা হয়। এতে এসব গাছ থেকে ক্ষীরও ঝরছিল।

অবশ্য এভাবে গাছ কাটার পেছনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও অলিখিত চুক্তি রয়েছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত এভাবে জাতীয় উদ্যানের গাছ কেটে নির্বিঘ্নে পাচার হয়। কিন্তু গতকালের গাছগুলো ধরা পড়ে খোদ ডিএফওর হাতে।

তবে মেদাকচ্ছপিয়া বনবিট কর্মকর্তা সৈয়দ আবু জাকারিয়া জানিয়েছেন, পাচারের সময় ডাম্পার ভর্তি গর্জন গাছের টুকরোগুলো কোন অবস্থাতেই মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান এলাকার গাছ নয়। বাইরে থেকে এসব গাছ এনে চকরিয়ার ওপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাই বনদস্যুদের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পৃক্ততার প্রশ্নই উঠেনা।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, পাচারের সময় গর্জন গাছ ভর্তি ডাম্পার গাড়িটি জব্দ করার পর ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৬২ টুকরো এবং পরিমাপ করে ৯০ ঘনফুট সদ্য কাটা গর্জন গাছ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) হক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, যেখান থেকে এসব গাছ কাটা হয়েছে সেখানে ইতিমধ্যে ফুলছড়ি রেঞ্জের এসিএফ বেলায়েত হোসেনকে পাঠানো হয়েছে। তবে ন্যাশনাল পার্ক এলাকা থেকে গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া গেলে বনদস্যু বা বনবিভাগের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *