চকরিয়ায় ২শত বছরের প্রাচীন নাথ শ্বশানের জমি জবর দখলের অভিযোগ


চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলার হারবাং ইউনিয়নস্থ চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন শিবপাহাড়স্থ দীর্ঘ ২শত বছরের প্রাচীনতম সর্বজনীন শিব মন্দির ও নাথ শ্বশানের জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের বড় ধরণের ঘটনা।

৩আগস্ট (শুক্রবার) বেলা ২টার দিকে স্থানীয় সম্প্রদায়ের নানা শ্রেণীর লোকজন জায়গা উচ্ছেদ নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। বিক্ষোভকালে এসময় উপস্থিত ছিলেন, নাথশ্বশান মন্দিরের পুরোহিত সুকুমার চক্রবর্তী, নাথশ্বশান মন্দির উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সুধাংশু বিমল নাথ, সাধারণ সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন নাথ, কোষাধ্যক্ষ লাল মোহন নাথসহ নাথশ্বশান মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্বস্তরের জনসাধারণ।

অভিযোগে জানাগেছে, হারবাং শিব পাহাড় এলাকার রশিদ আহমদের পুত্র মুরাদ উদ্দিন গংয়ের নেতৃত্বে একদল ভূমিদস্যু দীর্ঘদিন ধরে নাথশ্বশান মন্দিরের নামীয় জমি জবর দখল করে প্লট আকারে বিক্রির জন্য পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে একদল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে নাথশ্বশান মন্দিরের নামীয় বিএস ৩২২২ দাগের বাট্টা ৪২৬৮ এর ২০শতক জমি জোর পূর্বক ভাবে জবর দখলে নিয়ে ওই জায়গার চার পাশ ঘিরে রাখেন। দখলকৃত মন্দিরের ওই জায়গায় হিন্দুদের লাশ রেখে আধ্যশ্রাদ্ধেয় করা হতো। কিন্তু দখলবাজরা তা উপেক্ষা করে দীর্ঘ ২শত বছরের নাথশ্বশান মন্দিরের ২০শতক জমি জবর দখলে নেয়। এ ঘটনা নিয়ে নাথশ্বশান মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দরা বাদী হয়ে স্থানীয় হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম, ৭নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম ছাত্তার, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মজমুন নাহারের নেতৃত্বে সার্ভেয়ার মাধ্যমে ৩আগস্ট সকালের দিকে জবর-দখলে নেয়া জায়গাটি পরিমাপ করেন। জায়গা পরিমাপে শ্বশানের জমি হিসেবে চিহ্নিত করার পরও দখলবাজরা ওই জায়গা ছেড়ে না দেয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন বিক্ষোভ করে। এ বিষয়ে দখলবাজ মুরাদ উদ্দিন গংয়ের বিরুদ্ধে শ্বশান কমিটির নেতৃবৃন্দরা  মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে সূত্রে জানান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের পুরাতন শ্বশ্মানের জায়গাটি জবর-দখলে নিয়ে ঘেরা দিয়ে রাখা হয়। পরিষদের মাধ্যমে জায়গাটি ছেড়ে দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়ার পরও তা ছেড়ে দেয়নি।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, হারবাংয়ে মন্দির-শ্বশানের জমি-জবর দখলে নেয়ার ঘটনা সংক্রান্ত এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *