চকরিয়ায় ১০ টাকায় চাল বিক্রিতে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ


অনিয়ম

চকরিয়া প্রতিনিধি:

সরকারের ১০টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয় কর্মসূচির হতদরিদ্র পরিবারের তালিকা প্রনয়ণ ও চাল বিতরণে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা নুরুল আলম জিকু এবং পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে  ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী হতদরিদ্র, অসচ্ছল পরিবার প্রধানরা মাসে প্রতি কেজি ১০ টাকা দরে চাল পাবেন। কিন্তু এ নিয়ম অনুসরণ না করায় অনেক সচ্ছল,বিত্তবান পরিবার এ চাল পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও ইউনিয়নে বেশিরভাগ যে সব ব্যfক্তিরা ১০টাকা দরে চাল পাচ্ছেন তাদের অধিকাংশ বিএনপি দলের নেতাকর্মী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, সারাদেশের ন্যায় চকরিয়ায় ১৮ ইউনিয়নে হতদরিদ্র, অসচ্ছল পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় খাদ্য অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে প্রতি ইউনিয়নে দারিদ্রের প্রকোপ ও দুঃস্থতার মাত্রা বিবেচনায় উপকারভোগি পরিবারের মাঝে সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবারের তালিকা প্রনয়নের দায়িত্ব ইউপি চেয়ারম্যান ও একজন সরকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত ইউনিয়ন কমিটির। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকৃতপক্ষে তালিকা প্রনয়ণ করছেন ইউনিয়ন বিএনপি ও মেম্বার(সদস্য) নেতৃত্বে। এতে শুধু দুঃস্থতা বিবেচনা না করে দলীয় বিবেচনায় তালিকা করায় পরিষদের ৯টি ওয়ার্ডে অনেক সচ্ছল,বিত্তবান পরিবারের ব্যাক্তিরা তালিকাভূক্ত হয়েছেন। এর ফলে কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নয় এমন বহু দুঃস্থ পরিবার ১০ টাকা কেজি দরে চাল কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এতে চেয়ারম্যান নুরুল আলম জিকু ও পরিষদের সদস্যগণ চাল বিতরণে তাদের কোন রকম অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে মুখ খুলতে ও এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছেন না এলাকাবাসী।  তাদের এ অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্থানীয় এলাকাবাসী চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানান, চাল বিতরণে চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ হতদরিদ্রকে ন্যায্য মূল্যের চাল বিতরণ না করে তাদের আত্বীয় ও স্বচ্ছল ব্যাক্তিদের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাল বিতরণ করে যাচ্ছে। এমনকি ওই চাল বিতরণের কার্ড মেম্বার ও তাদের ছেলেদের নামে বিতরণ করার অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রকৃত দরিদ্র, অসহায় ব্যাক্তিরা ১০টাকা দরে চাল ক্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ অনিয়মের মাধ্যমে চালের কার্ড বিতরণ করা যে ব্যাক্তিরা চাল ক্রয় করছেন তারা হলেন, ৬নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারের ছেলে রমিজ উদ্দিন কার্ড নম্বর ২৩৭, মো: ফারুক কার্ড নম্বর ২২২, কামাল উদ্দিন কার্ড নম্বর ২৭৭, ৫নম্বর ওয়ার্ডের বদি আলম কার্ড নম্বর ২০৭,ছাদেক মিয়া কার্ড নম্বর ২১০, ৩নম্বর ওয়ার্ডের আমেনা খাতুন কার্ড নম্বর ১২৮, মফিজুর রহমান কার্ড নম্বর ১০৭, মনির খান কার্ড নম্বর ১১১, আবদুল কুদ্দুছ কার্ড নম্বর ৯৩, ৭নম্বর ওয়ার্ডের সবে মেরাজ কার্ড নম্বর ৩০৭, আবদুল জলিল কার্ড নম্বর ২৯৬, কামরুন্নেছা কার্ড নম্বর ৩০৬, রফিকুল ইসলাম কার্ড নম্বর ৩২০, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার আবু ছালেক কার্ড নম্বর ৩৮৫ ও আবদুল জলিল কার্ড নম্বর ৪০৩, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ হোসেন কার্ড নম্বর ৮৮ এবং একই পরিবারের পাঁচজন তাদের কার্ড নম্বর ৬১, ৬৩, ৮৪,৮৭, ৯০।

এ প্রসঙ্গে ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আলম জিকু’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়তান্ত্রিকভাবে  কার্ড বিতরণ করা হয়ছে। এখানে বিত্তবান ও স্বচ্ছল ব্যাক্তিদের অর্থের মাধ্যমে কোন কার্ড দেওয়া হয়নি। এলাকার অসহায়, অস্বচ্ছল  ও হতদরিদ্রকে চিহ্নিত কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এখানে দলের কোন প্রশ্ন আসতে পারেনা।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কার্ডের তালিকা অনুমোদন কমিটির সভাপতি মো: সাহেদুল ইসলাম বলেন, অনিয়মের ব্যাপারে তদন্তের জন্য খাদ্য কর্মকর্তাকে তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *