চকরিয়ায় সাধন জলদাসকে শ্বাসরোধ করে হত্যা  


FB_IMG_1494987146570 copy

চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সাহারবিল ইউনিয়নের শাহপুরা জলদাস পাড়াস্থ সাকের উল্লাহ মেম্বারের মরিচক্ষেত থেকে ৯ মে  রাতে উদ্ধার করা অজ্ঞাত লাশটি সাধন চন্দ্র জলদাসের বলে পরিচয় সনাক্ত হওয়ার পরে  হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ব্যাপারে মূলরহস্য বের হয়ে এসেছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার চকরিয়া সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে গ্রেফতারকৃত ১ আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার মাধ্যমে ঘটনার মূলতথ্য বেরিয়ে আসে।

কক্সবাজার সহকারী পুলিশ সুপার চকরিয়া সার্কেল কাজী মতিউল ইসলাম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ অভিযানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক এসআই কাওছার উদ্দিন চৌধুরী তদন্তের শুরুতে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া ২ ঘাতককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সাহারবিল ইউনিয়নের জলদাস পাড়া গ্রামের গুনহরি জলদাসের পুত্র বিরট জলদাস ও একই ইউনিয়নের পশ্চিম মাইজঘোনা এলাকার মো. আবুল ফজলের ছেলে সিরাজুল মোস্তাফা জামাল।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মামলার সন্দেহভাজন আসামি বিরট জলদাসকে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে বিরট জলদাস তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পুলিশ ১৫১ ধারায় রেকর্ড করে। বিরট জলদাসের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় হত্যায় জড়িত সিরাজুল মোস্তাফা জামালকে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিরাজুল মোস্তাফা জামাল হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে পুরো বিষয়টি খোলাসা করেন এবং সে স্বেচ্ছায় এব্যাপারে আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হন।

মঙ্গলবার বিকালে গ্রেফতার সিরাজুল মোস্তাফাকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তিনি আদালতের বিচারকের কাছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। একই সাথে আদালতের কাছে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে অপরাপর যারা জড়িত রয়েছে তাদের পরিচয় সনাক্ত করেন।

ওসি বখতিয়ার চৌধুরী বলেন, জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালতের বিচারক গ্রেফতারকৃত আসামি সিরাজুল মোস্তাফা জামালকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এদিকে মাত্র ৭ দিনের ব্যবধানে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে উদঘাটন ও ঘটনায় জড়িত ২ আসামি গ্রেফতার এবং আদালতে দায় স্বীকার করে ১ আসামির জবানবন্দি দেয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে চকরিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এব্যাপারে প্রেস বিফ্রিয়ের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠিত প্রেস বিফ্রিংয়ে কক্সবাজার সহকারী
পুলিশ সুপার চকরিয়া সার্কেল কাজী মতিউল ইসলাম নিহত সাধন চন্দ্র জলদাস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়া আসামি সিরাজুল মোস্তাফা জামালের ভাষ্যনুযায়ী এএসপি কাজী মতিউল ইসলাম বলেন, পারিবারিক, জায়গা-জমি সংক্রান্ত ও বিভিন্ন বিরোধের জের ধরে এলাকার কতিপয় ব্যক্তি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার চুক্তির বিনিময়ে সাধন জলদাসকে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডের কিলিং মিশনে অংশ নেয় ৯ জন ব্যক্তি। এর মধ্যে পুলিশ ২ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমে ঘটনার রাতে সাধন জলদাসকে ডেকে নিয়ে নেশা জাতীয় কিছু দ্রব্য খাইয়ে দেয়া হয়।

পরে আস্তে আস্তে সে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে মরিচ ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে ও অন্ডকোষ চেপে ধরে তাকে হত্যা করা হয়। লাশটি মরিচ ক্ষেতে রেখে দেয়ার আগে ঘাতকরা তার মুখমন্ডলে লোমনাশক ঔষুধ মেখে দেয়। যেন কেউ সহজে তার পরিচয় সনাক্ত করতে না পারে। এএসপি মতিউল ইসলাম আরও বলেন, আদালতে গ্রেফতারকৃত আসামি সিরাজুল মোস্তাফা জামাল আরও স্বীকার করেছে যে ঘটনার সময় যাতে নড়াচড়া করতে না পারে সেইজন্য জামাল সাধন জলদাসের পা চেপে ধরেন। অন্যরা গলা ও অন্ডকোষ চেপে ধরে।

ঘটনাটি জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংগঠিত করা হয়েছে বলে আদালতের কাছে এমন তথ্য দেয় গ্রেফতারকৃত আসামি সিরাজুল মোস্তফা জামাল। তবে জমিসংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি নারীসংক্রান্ত ঘটনাও থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর ঘাতকদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আশাকরি, সহসা পুলিশ সাধন হত্যাকাণ্ডের কিলিং মিশনে অংশ নেয়া সকল ঘাতককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ৯ মে রাতে উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নে শাহপুরা মরিচ ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় একটি অজ্ঞাতনামা লাশ। লাশটি উদ্ধারের সময় মুখমন্ডলের আকৃতি নষ্ট হওয়ায় নিহতের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ সনাক্ত করতে পারেনি।পরে আদালতের নির্দেশে লাশটি ময়নাতদন্ত শেষে কক্সবাজার আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ১৩ মে সকালে নিহতের ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী শান্ত কুমার সুশীল চকরিয়া থানায় উপস্থিত হয়ে নিহত ব্যক্তি তার বাবা সাধন চন্দ্র জলদাশ বলে সনাক্ত করেন। এরপর দাফনের তিনদিন পর লাশটি কবর থেকে উত্তোলন করে বাড়িতে নিয়ে হিন্দুধর্মের রীতি অনুযায়ী লাশের দাহ সম্পন্ন করা হয়।নিহত সাধন চন্দ্র সুশীল উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের মাইজঘোনাস্থ শিলপাড়া গ্রামের অশ্বিনী কুমার জলদাশের ছেলে। লাশটি উদ্ধারের ঘটনায় ১৪ মে চকরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী থানার এসআই আবদুল খালেক।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *