চকরিয়ায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সাজ সাজ রব, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর: থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা


 

চকরিয়া প্রতিনিধি:

সনাতন ধর্মালম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।তাদের যেনো দম ফেলার সুযোগটুকুও নেই। ১৯ সেপ্টেম্বর মহালয়া দিয়ে প্রারম্ভিক সূচনা ঘটতে যাচ্ছে শারদীয় দূর্গোৎসবের।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীর মাধ্যমে মুল উৎসব শুরু হবে। এবার দেবী মর্ত্যলোকে আসছেন নৌকায় চড়ে, ঘোটকে চড়ে দেবলোকে প্রস্থান করবেন। এই উৎসবকে ঘিরে কক্সবাজারের চকরিয়ায় ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় চলছে যেন সাজ সাজ রব।

উৎসবটিকে ঘিরে শহর পেরিয়ে গ্রামের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে পূজোর আমেজ।এরইমধ্যে উপজেলার ৪৪টি পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীর কারিগররা। শিল্পীদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় দেবী দুর্গার বিমূর্ত অবয়ব ফুটে উঠেছে মন্ডপে।

আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী বিহিত পূজার মাধ্যমে দেবী দুর্গার মূল অনুষ্ঠান শুরু করা হবে।

এদিকে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্ততি।

পূজার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততোই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ব্যস্ততা বাড়ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের মাঝে। সনাতন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসবের আয়োজন হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবটি বড় ধরণের হওয়ায় ফলে দুর্গা পূঁজর মন্ডপগুলোতে প্রতিবছর ভিড় করেন অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর লোকজনও।

তাই এবারও চকরিয়ায় দুর্গা পূজাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলন ঘটবে বলে আশা করেছেন উৎসব কমিটির আয়োজকরা।

চকরিয়া সার্ব্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দির পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ মিত্র জানান, জাকজমকপূর্ণভাবে মা’ দুর্গার অর্চনা করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্ততি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে। শুধু মাত্র রংয়ের তুলিতে মা’কে

সম্পন্নরুপে ফুটিয়ে তোলার কাজ বাকি রয়েছে। আশা করি ষষ্ঠী পূজার আগেই সমস্ত কাজ শেষ হয়ে যাবে।

চকরিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু বাবলা দেবনাথের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে উপজেলায় ৪৪টি মন্ডপে পূজা এবং ৩৭টি মন্ডপে ঘট পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

তৎমধ্যে চকরিয়া পৌরসভায় ৭টি, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ৬টি, কাকারা ইউনিয়নে ৩টি, বরইতলী ইউনিয়নে ৬টি, হারবাং ইউনিয়নে ৬টি, সাহারবিল ইউনিয়নে ২টি, ডুলহাজারা ইউনিয়নে ৭টি, খুটাখালী ইউনিয়নে ১টি, চিরিংগা ইউনিয়নে২টি, কৈয়ারবিল ইউনিয়নে ২টি ও পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে ২টি মন্ডপে প্রতিমা পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী কাছে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসবে যেন দুর্গা পূজা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। এছাড়া মোতায়েন থাকবে পুলিশের মোবাইল টিম, র‌্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা। আশা করি সুষ্ঠভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পূজা। এরমধ্যে আয়োজকদের সাথে সব ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতি বছর সরকারীভাবে যে বরাদ্ধ দেয়া হয় আশা করি তা পূজো শুরুর আগেই চলে আসবে। পূজাতে যাতে আইন শৃঙ্খলায় কোন ধরণের সমস্যা না হয় সেজন্য পুলিশ, র‌্যাব সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *