চকরিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে বৃদ্ধা নিহত: অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

 

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নুরুন্নাহার(৭০)নামের এক বৃদ্ধার মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয়। নিহত বৃদ্ধা মহিলা বসতঘরের মালিক সিরাজুল হকের স্ত্রী।

এ ঘটনায় বসতঘরের মালামাল পুড়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের রসুলাবাদ তিল্লাকাটা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ দেড়ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী ইউনিট।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার(১২জানুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) ইউএনও খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অগ্নিকাণ্ড ও নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নস্থ রসুলাবাদ তিল্লাকাটা এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে দুর্ঘটনা বশত অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। আগুনের লেলিহান শিখা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে বসতঘর সম্পূর্ণ ভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন ভয়াবহ আগুনের দৃশ্য দেখতে পেলে শোর চিৎকার করতে থাকে। খবর দেয়া হয় ফায়ার সার্ভিসেও। ততক্ষণে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দীর্ঘ দেড়ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বসতঘরের অন্যান্য সদস্যরা বের হতে পারলেও নুরুন্নাহার(৭০)নামের এক বৃদ্ধা অগ্নিদগ্ধ হয়ে পুড়ে প্রাণ হারায়।

এলাকাবাসী জানান, বসতঘরের ভেতর থেকে বাঁচান! আমারে বাঁচান! চিৎকার করলেও শত চেষ্টার পরও নুরুন্নাহারকে জীবিত বের করে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে তার নির্মমভাবে প্রাণহানি ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য জাহেদুল করিম এ পার্বত্যনিউজকে জানান, বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়ির মহিলা সদস্যরা ব্যতিত আমরা তিন ভাই ঘরের বাহিরে ছিলাম। যৌথ পরিবার হিসেবে একই ঘরে চার পরিবার ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় আমি নিজেও ছিলাম একটি সিরাত মাহফিলে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাসায় এলে দেখতে পাই সম্পূর্ণ বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। ঘরের ভেতরে আটকা থাকা মা’কে বের করে আনা সম্ভব হয়নি। দগ্ধ হয়ে সে পুড়ে প্রাণ হারায়।

এ ছাড়াও বসতঘরের কোনো মালামাল বের করে আনা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারের শর্টসার্কিট আতঙ্কে উদ্ধার তৎপরতায় বিঘ্ন ঘটে। এতে বসতঘরে থাকা নগদ আটলক্ষ টাকা, ২৫ভরি স্বর্ণসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল পুড়ে গিয়ে প্রায় ৫০লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিদর্শনে যাওয়া চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তার আওতায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

তিনি বলেন, দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪পরিবারকে ২ বান করে টিন, এক পরিবারকে নগদ ৬ হাজার করে ২৪ হাজার টাকা ও ২টি করে কম্বল প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি জানান।