চকরিয়ায় বসতভিটা বিরোধে দুই শিক্ষার্থীসহ ৪জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম


চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত কলেজ ছাত্র মোর্শেদ হত্যা ও মাহতাব উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি ও হত্যার ঘটনায় জড়িত সহযোগীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এসব চিহ্নিত হত্যা মামলার সহায়তাকারীরা বসতভিটা বিরোধ নিয়ে একদল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে একই পরিবারের স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষার্থীসহ ৪জনকে  কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

আহত ব্যাক্তিদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।   শুক্রবার(৬অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে নিহত কলেজ ছাত্র মোর্শেদ হত্যা ও মাহতাব উদ্দিন হত্যার সহায়তাকারী বেপরোয়া হয়ে এলাকার নিরীহ মানুষের উপর ফের নানা অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরইতলী সিকদার পাড়া এলাকার মো. হামিদ আলীর পুত্র নুরুচ্ছফা ও তার পুত্র তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪/৫জনের একদল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশিয় তৈরি ধারালো অস্ত্র নিয়ে একই এলাকার মৃত আবদুস সালামের পুত্র নুরুন্নবীর বসতভিটা জবর দখল ও বাড়ির সুপারী বাগানের সুপারী লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল।

ওই সময় সন্ত্রাসীদের বাধা দিলে তৌহিদুল ইসলামের লোকজন হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্রদিয়ে ৪জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আহত ব্যক্তিরা হলেন, সিকদার পাড়া এলাকার মৃত আবদুস সালামের পুত্র নুরুন্নবী(৫৫) তার স্ত্রী বুলবুল আক্তার(৫০) চকরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়ুয়া একাদশ ১ম বর্ষের ছাত্রী নুরে হাবিবা(১৭) ও বরইতলী আহমদিয়া মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ আল মাছুম(১৬)কে ব্যাপক ভাবে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আহত বুলবুল আক্তারের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

হামলায় আহত কলেজ ছাত্রী নুরে হাবিবা অভিযোগে জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সিকদার পাড়া এলাকায় নুরুচ্ছফা ও তার পুত্র তৌহিদুলসহ কয়েকজন সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের বসতভিটায় ঢুকে নানা ধরণের জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। শুক্রবার দুপুরে আমাদের বাড়িতে ঢুকে বসতঘরে হামলা চালিয়ে ও বাড়ির সুপারীগাছের বাগানের সুপারী পেড়ে লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় তাদের বাধা দিলে আমার বাবা-মা, চাচাতো ভাই ও আমাকে বেধড়ক মারধর করে বাবা ও মাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসী বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা মোর্শেদ হত্যা ও মাহতাব উদ্দিন হত্যার ঘটনায় অন্যতম সহযোগী এবং এলাকার আলোচিত দা বাহিনীর সদস্য। এঘটনায় আহত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও পারিবারিক সুত্রে জানায়।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে থানায় এখনো কেউ অভিয়োগ দায়ের করেনি।অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *