চকরিয়ায় পুরোদমে চলছে বোরো চাষাবাদ


চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় চলতি মৌসুমে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো চাষাবাদ। কৃষি বিভাগ এ মৌসুমে ৪৬ হাজার ৯ শত ২৫ একর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার ৫৪টি ব্লকের অধীনে এসব জমিতে চাষে নেমেছেন প্রায় লক্ষাধিক কৃষক। বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪০হাজার একর জমিতে বোরো বীজতলা রোপন সম্পন্ন হয়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সময়ে উপজেলার অবশিষ্ট জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন হবে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে কৃষি বিভাগ।

মাতামুহুরী নদীর দুই পয়েন্টে নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থায়ী দুইটি রাবার ড্যাম ফুলানোর মাধ্যমে নদীর মিঠাপানি আটকে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় কৃষকদের মাঝে চাষাবাদ নিয়ে কোন ধরনের শঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা কৃষি বর্গাচাষি সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন পুতু।

তিনি বলেন, মাতামুহুরী নদী সময়ে সময়ে চকরিয়াবাসীর জন্য অভিশাপ হলেও শুষ্ক মৌসুমে হয়ে ওঠে আশীর্বাদ। কারণ প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে উপজেলার হাজারো কৃষক নদীর মিঠাপানির সেচ সুবিধা নিয়ে নিশ্চিন্তে চাষাবাদ করতে পারে। অনুরূপভাবে উপজেলার কৃষককূল এবছরও কোন ধরণের শঙ্কা ছাড়াই সেচ সুবিধা নিয়ে বর্তমানে চাষাবাদে নেমেছে। তবে তিনি কৃষকের মাঝে সঠিক সময়ে সারসহ সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৪৬ হাজার ৯শত ২৫ একর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এবছর প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় চাষের পরিমাণ বাড়তে পারে। চাষের লক্ষ্যমাত্রার রেকর্ড অতিক্রমের সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে এমনটা জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিটি ব্লকে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দিক-নির্দেশনায় প্রতিবারের মতো চলতি মৌসুমেও গুটি ইউরিয়া ও এলসিসি পদ্ধতি অনুসরণ করে কৃষকরা বোরো চাষ শুরু করেছেন। এ পদ্ধতির চাষে ক্ষেতে কোন ধরনের পোকা মাকড়ের আক্রমণ থাকে না। ফলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। আগের বছরেও এ ধরনের সাফল্য পেয়েছে কৃষকরা।

তিনি বলেন, চাষের শুরু থেকে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বোরো রোপনে তদারক করছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগের উন্নয়ন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত (উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা) সনজিব বড়ুয়া ও রাজীব দে বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪৬ হাজার ৯শত ২৫ একর (১৮হাজার ৭৭০ হেক্টর) জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৩হাজার ৭শ ৫ একর জমিতে উফশী জাতের, ৫ হাজার ৬০ একর জমিতে হাইব্রিড জাতের ও মাত্র পাঁচ একর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান চাষ করা হচ্ছে। কৃষি উন্নয়ন শাখার দেয়া তথ্য মতে, উফশী জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রি-ধান আটাশ, উনত্রিশ, তেত্রিশ, পঞ্চান্ন, সাতষট্টি, চৌদ্দ, ষোল, বার, বিনা আট ও দশ।

এছাড়া হাইব্রিড জাতের মধ্যে রয়েছে হীরা, সেরা, পাইওনিয়ার, তেজ, ধানীগোল্ড ও এসএলএইড জাতের ধান।

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.আতিক উল্লাহ বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যারচর, ঢেমুশিয়া, কোণাখালী, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর, কাকারা, ফাঁসিয়াখালী, কৈয়ারবিল, সুরাজপুর-মানিকপুর, বমু বিলছড়ি, হারবাং, বরইতলী, সাহারবিল, পুর্ববড় ভেওলা, বদরখালী, খুটাখালী, ডুলাহাজারা,  চিরিঙ্গা ও পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে ৪৬ হাজার ৯শত ২৫ একর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরুর পর থেকে চলতি ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ৪০ হাজার তিনশ একর জমিতে রোপন শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট জমিতে চলতি মাসের মধ্যে শেষ হবে চাষাবাদ কার্যক্রম। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূল থাকায় চাষের পরিধি বাড়তে পারে। এতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের চেয়ে অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, মাতামুহুরী নদীতে নির্মিত দুইটি রাবার ড্যামের মাধ্যমে নদীর মিঠাপানি আটকে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় কৃষকরা যথাসময়ে চাষে নেমে পড়েছে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *