চকরিয়ায় পটুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন


চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় র‌্যাবের একটি টিম অভিযান চালিয়ে সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) ভোররাতে উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম বুড়িপুকুর পাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের পুত্র কোরআনে হাফেজ মোহাম্দ করিম পটুকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেন কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-৭ একটি টিম।

এ সময় তার কাছ থেকে তিনটি ওয়ান শ্যুটারগান(এলজি, একটি রামদা ও ১৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার দেখানো হয়েছে। পটুকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৯ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে চিরিঙ্গা ইউনিয়নের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও সর্বস্তরের জনসাধারণ হাফেজ মো. করিম পটুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ ভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এনিয়ে এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা মুক্তির দাবিতে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানের কাছে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

উপজেলা চত্বরে পটুর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনের উপস্থিত এলাকাবাসী সাংবাদিকদের বলেন, চিরিংগা ইউনিয়নের চিংড়ি জোনের চিহ্নিত বেশ কয়েকজন চিংড়িঘের জবর-দখলকারী ও রাজনৈতিক চত্রছায়ায় সরকারি দলের প্রভাব বিস্তার করে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড প্রশাসনের কাছ থেকে আড়াল করতে পটুকে পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে কথিত অস্ত্র উদ্ধারের মিথ্যা ঘটনা সাজানো হয়েছে। অভিযানে র‌্যাব বাহিনী যে অস্ত্র গুলো উদ্ধার করে গণমাধ্যম কর্মীদের দেখানো হয়েছে তাতে অস্ত্রসহ গুলি গুলো দীর্ঘদিনের  মরিচিকাযুক্ত, অকেজো ও অনুপযোগী।

মানববন্ধনে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আরো বলেন, পটুর পিতা হাবিবুর রহমানের উপর পারিবারিক জায়গা-জমি ও চিরিংগা ইউনিয়ন ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতৃত্বের পুর্ব শত্রুতার জের ধরে কুচক্রী মহলের ইন্ধনে ক্ষুব্ধ হয়ে মূলত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের মিথ্যা তথ্যদিয়ে এ অস্ত্র উদ্ধার নাটকটি করা হয়েছে বলে দাবি করেন। হাফেজ মো. করিম পটু এলাকায় একজন সুশিক্ষিত ও সমাজ পরায়ন ব্যক্তি। পটুর পরিবারকে এলাকায় কোণঠাসা করতে একটি কুচক্রি মহল দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরণের ষড়যন্ত্র করে আসছে।

এ ঘটনাটি তার একটি জ্যান্ত উদাহরণ বলে মানববন্ধনে স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন। উপস্থিত জনতার একটাই দাবি, ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় আটক নিরীহ নির্দোষ হাফেজ মো. করিম পটুকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি করেন এবং যারা এ ঘৃণ্য নাটক সাজিয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত নারী-পুরুষের সামনে পটুর পরিবার বলেন, স্থানীয় তাদের এলাকায় থানার দালাল সোহেল ও বুড়িপুকুর কলিম উল্লাহর ছেলে নুরুল আবচার আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য র‌্যাবের সাথে যোগাযোগ করে সোহেল নিজেই মুখে কাপড় বেঁধে বাড়ির ভেতর ঢুকে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে বের হয়ে যায়। এবং সোহেল নিজেই র‌্যাবকে খড়ের গাদার পাশে অবৈধ অস্ত্র ও একটি প্যাকেট দেখিয়ে দেন। এটা কি পটুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে। যারা এ নাটক সাজিয়েছেন তারা চিরিংগা চিংড়ি জোন এলাকার আলোচিত মামুন ও জাহাঙ্গীর ডাকাতের লেলিয়ে দেয়া পোষ্য। সোহেল উপকূল অঞ্চলের চিংড়ী জোনকে মামুনের হাতে তুলে দেয়ার জন্য এ পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানোর জন্য এ ঘৃন্য কাজটি করেছে বলে দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *