চকরিয়ায় তীব্র যানজটে নাকাল পৌরশহর, ভোগান্তিতে জনগণ


চকরিয়া প্রতিনিধি:

তীব্র যানজটের ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরের মানুষ। ব্যস্ততম চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া পৌরশহর চিরিঙ্গার দুইপাশের ফুটপাত দখল করে যত্রতত্র অবৈধ স্থাপনা, ভাসমান দোকান ও অভ্যন্তরীণ সড়কের গাড়ির স্ট্যান্ড গড়ে উঠায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

চকরিয়া পৌরশহরে এসে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তীব্র যানজটের শিকার হচ্ছে চকরিয়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী  কয়েকটি উপজেলার মানুষ। যানজটের এই ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ দিতে কিছুদিন পর পর উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান করতে দেখা গেলেও তা কাজে আসছে না। অভিযানের পর পরই নতুন করে ফুটপাত দখল করে যত্রতত্র অবৈধ স্থাপনা ও ভাসমান দোকান গড়ে উঠে। এতে ভেস্তে যাচ্ছে প্রশাসনের উদ্যোগ।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চকরিয়া পৌর শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি মুলত কক্সবাজার–চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশেই অবস্থিত। মার্কেটগুলোও গড়ে উঠেছে মহাসড়ক ঘেঁষেই। রয়েছে প্রধান প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি–বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা, হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ নানা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।

এছাড়াও প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী মহেশখালী, কুতুবদিয়া, লামা, আলীকদম ও পেকুয়ার  লক্ষাধিক মানুষ পৌরশহরের চিরিঙ্গা স্টেশন হয়েই যাতায়াত করে। এসব কারণে সকাল থেকেই চিরিঙ্গা শহর লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। কিন্তু তীব্র যানজটে এখানে আসা মানুষগুলো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

চকরিয়া পৌরসভার বাসিন্দারা জানান, মহাসড়ক ছাড়াও দুই পাশে আলাদা রানওয়ে সড়ক থাকলেও যানজট কোনো অবস্থাতেই পিছু ছাড়ছে না। কিছুদিন পর পর উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে যানজট নিরসনকল্পে উদ্যোগ নিতে দেখা গেলেও এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাচ্ছে না ভুক্তভোগী মানুষ। এক্ষেত্রে রানওয়ের দুই সড়ক দখল করে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে রেখে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল উঠানামা, ফলের দোকান এবং ভাসমান হকারের কারণে প্রতিনিয়ত এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মহাসড়কের ফুটপাত দখল করে ভাসমান হকারদের বসার সুযোগ করে দিয়েছেন। যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ কয়েকমাস পর পর ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে ভাসমান দোকান ও অস্থায়ী গাড়ির স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করলেও প্রতিনিয়ত পৌর শহরে স্থায়ী রূপ নিচ্ছে যানজট। এ কারণে পৌর শহর চিরিঙ্গার মাতামুহুরী ব্রিজ থেকে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ঘন্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ভাসমান হকার বলেন, ‘আমরা টাকা দিয়ে অনুমতি নিয়ে দোকান খুলেই ব্যবসা করছি। প্রশাসন মাঝে–মধ্যে আমাদের উচ্ছেদ করলেও ফের আমরা ঠিকই দোকান খুলে ব্যবসা করতে পারব।’

চকরিয়া পৌর শহরে যানজট একটি নিত্য–নৈমিত্তিক ব্যাপার। কিছুদিন পরপর অভিযান চালিয়ে ভাসমান হকারদের দোকান ও অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হলেও স্থায়ীভাবে যানজট নিরসন সম্ভব হচ্ছে না। এ কথা জানিয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি কিভাবে পৌর শহরকে যানজটের কবল থেকে মুক্ত রাখা যায়। এজন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক হতে হবে। তা না হলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৌর শহরকে যানজট মুক্ত করা দুরূহ ব্যাপার।

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ইউএনও হিসেবে যোগদান করার পর থেকে পৌরশহর চিরিঙ্গাকে কীভাবে যানজটের কবল থেকে রক্ষা করা যায় সেদিকে জোর পদক্ষেপ নিয়ে কয়েকদফা অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ফুটপাতের বেশ কিছু ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেছি। প্রয়োজনে কয়েকদিন পর পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকল্পে। এজন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সহ সবপক্ষকে নিয়ে অচিরেই জরুরী বৈঠক করব। সেখানে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘ফুটপাতে যারা ব্যবসা করেন তারা সকলেই গরিব শ্রেণির। এর পরেও কোনো অবস্থাতেই পৌরশহর চিরিঙ্গাকে যানজটের শহরে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *