চকরিয়ায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ: ক্ষোভ ও উত্তেজনা


চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

নরপশুতুল্য ৫৫ বছরের আনু মিয়া নামের লবণ চাষী ওই শিশু মেয়েকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৯টার দিকে উপজেলার বদরখালী ৩নম্বর ব্লকের নাপিতখালী পাড়া এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়। ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও পরিবারের সদস্য জানান, বদরখালী ইউনিয়নস্থ তিন নম্বর ব্লকের আজমনগর সরকারি প্রাথিমক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া-লেখা করে আসছিল পার্শ্ববর্তী নাপিতখালী পাড়ার পুস্পিতা (ছদ্মনাম) এক ছাত্রী। ওই ছাত্রী নিয়মিত বাড়ির অদূরে রুমা নামের এক শিক্ষিকার কাছে  প্রাইভেট পড়তে যেত। শনিবার দিবাগত রাতেও প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়ে রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফিরছিল।

কিন্তু ওই ছাত্রী বাড়ি পৌঁছার আগেই একই এলাকার লবণচাষী এরশাদ আলীর পুত্র আনু মিয়া (৫৫) তার গতিরোধ করে শিশু ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষিতা বাড়ি ফেরার পর তার  রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় ও কান্নাকাটি করায় মা-বাবা কি হয়েছে জিজ্ঞেস করলে প্রতিবেশী দাদা সম্পর্কিত আনু মিয়া ধর্ষণ করেছে বলে জানায়। ঘটনা শুনেই ছাত্রীর বাবা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটে পড়ে। পরে সংজ্ঞা ফেরার পর ধর্ষিত মেয়েকে নিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চকরিয়া উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ছাত্রীর রক্তক্ষরণ দেখে হাসপাতালের রেকর্ড বইতে ধর্ষণের আলামত লিখে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওসিসিতে প্রেরণ করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বদরখালী ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল বশর বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে রাতেই ধর্ষণের ঘটনাটি  আমাকে অবহিত করা হয়। ওই সময় ছাত্রীকে প্রথমে চিকিৎসা করানোর জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আর ধর্ষিতা ছাত্রী সংকটমুক্ত হলে পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ব্যাপারে কেউ আমাকে অবহিত করেনি। থানায় রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেউ লিখিত দেয় নাই। তবে অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *