চকরিয়ায় ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত তালিকা প্রণয়নে কারিতাসের অনিয়মের অভিযোগ


চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়, অস্বচ্ছল, হতদরিদ্র, স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা পরিবারে জন্য কারিতাস এনজিও সংস্থার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে  প্রতি পরিবারকে গৃহ নির্মাণের জন্য ২০হাজার করে টাকা অনুদান দেয়ার প্রকল্প হাতে নেয়। ওই প্রকল্পে গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষকে ওই সংস্থার পক্ষ থেকে মোরা আক্রান্তদের টাকা দেয়ার তালিকা প্রণয়ন করেছেন খোদ এনজিও সংস্থার মাঠকর্মী ও একশ্রেণির দালাল লোকজন।

মঙ্গলবার(১৭অক্টোবর) বিকালে উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান ও মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরছ খাতুন তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিয়োগ এনে ভোক্তভোগীদের নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভোক্তভোগী ও প্যানেল চেয়ারম্যান আরছ খাতুন অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৩নম্বর ও ৪নম্বর ওয়ার্ডে ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারের মাঝে প্রতি পরিবারে গৃহনির্মাণ করে দেয়ার জন্য কারিতাস এনজিও সংস্থা নামক একটি এনজিও মাঠ পর্যায়ে তালিকা প্রণয়ন করেন। তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত এবং এই টাকা পাওয়ার যোগ্য তাদের প্রকৃত তালিকা প্রণয়ন না করে মনগড়া, বিত্তবান, স্বচ্ছল, প্রবাসী ব্যক্তিকে তালিকা প্রণয়ন নাম লিপিবদ্ধ করেন। তালিকা প্রণয়নের এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে  কারিতাস এনজিওর অসাধু কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ও ৪নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাব্বত আলী কালুসহ স্থানীয় দালাল শ্রেণির লোকজন।

তিনি আরো বলেন, তালিকা তৈরি প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ এনে সম্প্রতি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্থানীয় কয়েকজন ভোক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করেন। এসব অনিয়ম খতিয়ে দেখতে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে গঠিত হয়নি কোন তদন্ত কমিটি। ফলে বহাল তবিয়তে আছে প্রতারকচক্র।

ভোক্তভোগী অভিযোগ, কারিতাস এনজিও সংস্থার মাঠ পর্যায়ে কর্মীরা আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে এনজিওর টাকা পাইয়ে দেয়ার প্রলোভনে এক শ্রেণির প্রতারকচক্রের মাধ্যমে দরিদ্র জনগণের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চলমান কারিতাস এনজিও এ প্রকল্পে তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে চলছে নানা অনিয়ম।

উৎকোচ গ্রহণের গোপনীয়তা রক্ষায় অসাধু  ইউপি সদস্য ও এনজিও কর্মচারীরা তৃতীয় ব্যক্তিকে ব্যবহার করেছে বলে স্থানীয় ভোক্তভোগী ও প্যানেল চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন। নির্ধারিত উৎকোচ ছাড়া কোন দরিদ্র পরিবার ত্রাণের ঘর বা অন্য কোন পুনর্বাসন সহায়তা পেয়েছে তা জানা নেই। দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে উৎকোচের বিনিময়ে এসব টাকা বা গৃহনির্মাণ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

এনজিও সংস্থা কারিতাসের মাঠকর্মীর যোগসাজসে ৩নম্বর ও ৪নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা প্রকৃত উপকারভোগী তালিকা প্রণয়ন না করে স্বচ্ছল ব্যক্তির নাম প্রণয়ন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল চেয়ারম্যান আরছ খাতু বলেন, উপকারভোগীর পূর্বের তালিকা সংশোধন দেখিয়ে তাকে সুকৌশলে পরিষদে ডেকে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা তার কাছ থেকে রেজুলেশন খাতাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের স্বাক্ষর নেয়। তিনি পূর্বের প্রণয়নকৃত তালিকা বাদ দিয়ে প্রকৃত নতুন করে উপকারভোগীর নাম তালিকা প্রণয়নের জন্য সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *