ঘুমধুমে পাহাড় ধ্বসে ৩ জন নিহত ও ১ জন জীবিত উদ্ধার


ঘুমধুম প্রতিনিধি:
(সর্বশেষ)
বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধ্বসে নারীসহ তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং ১জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের মনজয়পাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মনজয়পাড়ার মোহাম্মদ সুলতানের ছেলে আবু আহমেদ (৩০), শাহ আলমের ছেলে মো. জসিম (২৫), মৃত আবদুস শুক্কুরের ছেলে ও সোনা মেহের (৩৫)।

এ সময় মোহাম্মদ বেলালের ছেলে নুর মোহাম্মদকে (২৭) জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ ও মেম্বার ক্যামরা উ মারমা জানান, মনজয় পাড়া এলাকায় পুতুইন্না নামের জনৈক ব্যবসায়ী তার মাছের খামারে পাহাড় ঘেষে নালা তৈরি করছিলেন। এজন্য সকাল থেকে ৫ শ্রমিক মাটি কাটছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে মাটি কাটার কাটার সময় পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে তাদের ওপর পড়ে। এতে তারা সবাই মাটিচাপা পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকরা পাহাড়ের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করছিলেন। হঠাৎ তাদের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে নূর মোহাম্মদকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে বাকিরা ঘটনাস্থলেই মারা যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছিল। লাশগুলো ২০ থেকে ৩০ ফুট মাটির নিচে চাপা পড়েছিল উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে কক্সবাজার থেকে দমকল বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পুলিশ,বিজিবি,অানসারসহ স্থানীরা উদ্ধার কাজে তৎপরতা চালান।

ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ জানান, মাটি সরাতে গিয়ে নারী শ্রমিকের লাশের পেট ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। লাশগুলো উদ্ধার করে কক্সবাজার হাসপাতালে নেয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে পুলিশ।

সর্বশেষ রাত ১১টা পর্যন্ত ৭ ঘন্টা চেষ্টার পর উদ্ধার কাজের সফল সমাপ্তি ঘটে। উদ্ধারকর্মীরা যখন লাশগুলো মাটির নিচ থেকে তোলে অানেন তখন অাত্বীয়-স্বজন,পাড়া-প্রতিবেশী ও এলাকা জুড়ে সর্বত্রই শোকের ছায়া নেমে অাসে।

সকাল থেকে উদ্ধারকর্মীদের সার্বক্ষণিক সহযোগীতা করেন ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান একেএম জাহাংগীর অাজিজ ও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ওসি তদন্ত ইমন চৌধুরী ও স্থানীয় জনসাধারণ। সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, উপজেলা অাওয়ামীলীগ সভাপতি অধ্যাপক শফিউল্লাহ, সহ-সভাপতি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী,সাধারণ সম্পাদক ইমরান মেম্বার।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম জানান, হতাহতদের তালিকা তৈরীর পর তাদের প্রশাসনের পক্ষ হতে নিহতদের ৩০ হাজার করে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।

তবে এলাকাবাসীর দাবী ঝুঁকিপূর্ণ জানা সত্বেও এক প্রভাবশালীর ইন্ধনে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে নালা কাটা হচ্ছিল। যার দরুণ এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তারা সঠিক তদন্তপূর্বক দোষীদের শাস্তি প্রদান ও অাহত ও নিহতদের পরিবারের ক্ষতি পূরনের ব্যাবস্থা করা হউক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *