গুইমারা উপজেলার একবছর পূর্ণ হলেও পূর্ণ হয়নি উপজেলাবাসীর স্বপ্ন


 

গুইমারা প্রতিনিধি:

গুইমারা উপজেলা নির্বাচনের একবছর পূর্ণ হলেও পূর্ণ হয়নি উপজেলাবাসীর স্বপ্ন। স্বপ্নের ফসল উঠেনি হতভাগ্য গুইমারাবাসীর ঘরে। স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ অনেক ধাপে এখনো পিছিয়ে গুইমারাবাসী। উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে  দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন সম্ভব হয়নি বলে দাবি করছেন উপজেলার অনেক সচেতন নাগরিকরা ।

তিন উপজেলার মাঝে তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে স্বতীনের ঘরের মত অবস্থানে ছিলো গুইমারাবাসী। এজন্য সকল পর্যায়ের মূল লক্ষ ছিল গুইমারাকে উপজেলা ঘোষণা করা হলে তাদের ভাগ্যে হয়ত আধুনিক উন্নয়নের নতুন ছোয়া লাগবে।

তাই গুইমারাবাসীর দাবি পূরনের লক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান বাবু মেমং মারমার নেতৃত্বে গুইমারা আওয়ামী লীগের বিশেষ একটি টিম প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোরালো দাবির কারণে তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গুইমারাকে ২০১৪ সালের ২জুন অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পূণর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১০৯তম সভায় নতুন উপজেলা হিসেবে গুইমারা অনুমোদন দেয়া হয়।

গত বছর ৬ মার্চ নবসৃষ্ট উপজেলার নির্বাচন ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। কোন ধরনের কারচুপি ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিলো নির্বাচনটি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সরকারি দল আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেমং মারমা নির্বাচনী মাঠে সবাইকে সমানভাবে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তা কার্যকর ভূমিকা ও পালন করেছেন।

গেলো বছরে শঙ্কা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো এই  প্রথম  নির্বাচন। আর এ নির্বচনে দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল  বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের টেক্কা মেরে  স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যানারে জয়লাভ করেছিলেন আঞ্চলিক সংগঠনের প্রার্থী উশ্যেপ্রু মারমা আনারস প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৮৯৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

অপর দিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ঝর্ণা ত্রিপুরা পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী পূর্ণ কান্তি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মেমং মারমা পেয়েছীলেন ৫ হাজার ৭৬৯ভোট ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. ইউসুফ পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৮৫৫ ভোট।

গুইমারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ তাদের মর্যাদার লড়াই হিসেবে বিবেচনা করে  ভোটারদের কে  দিয়েছিলেন  নানা প্রতিশ্রুতি। তাদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী  উশ্যেপ্রু মারমা ও ভুল করেননি  ভোটারদের নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি দিতে।  তবে কেন আজ সেসব প্রতিশ্রতি বাস্তবায়ন হচ্ছে না এমন দাবি গুইমারাবাসীর।

গুইমারা উপজেলার ডাক্তারটিলা, আমতলী পাড়া, রামছু বাজার, বাইল্যছড়ি এলাকায় ঘুরে  জনপ্রতিনিধি সহ স্থানীয় অনেকের নিকট থেকে জানাযায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ঝর্না ত্রিপুরাকে ছাড়া নির্বাচনের পর থেকে চেয়ারম্যান ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান দের মোবাইলে পর্যন্ত পাওয়া যায়না। তবে কার্যালয় না থাকায় এমনটি হচ্ছে বলেও অনেকের ধারনা।

১শ ১৫ বর্গ কিলোমিটারের গুইমারা উপজেলার  ২৭৩৮১ জন ভোটার আজ উপজেলা কার্যক্রম নানান দিক থেকে  উপযোগী সুবিধা বঞ্চীত।

এবিষয়ে হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কালিন সময়ে প্রতিশ্রুত প্রতিশ্রুতি গুলো ধীর গতিতে কিছু কিছু বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে ভবন জটিলতার কারণে অনেক বেশি সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ঝর্না ত্রিপুরা গুইমারার সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমরা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন বসার স্থান পাই নি। এরপরও আমি মানুষের সেবার লক্ষে সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করি। নিজ উদ্যোগে সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম করে যাচ্ছি।  মানুষের ভোটের সম্মান রক্ষা করার চেষ্টা করছি। তবে আমাদের ভবনের কাজটি দ্রুত শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ইউছুফ গুইমারা উপজেলা নির্বাচনের ১ বছর পূর্তি উপলক্ষে উপজেলাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নির্বাচিতরা গুইমারার উন্নয়ন অবকাঠামোর দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন উপজেলাবাসীকে দেখাতে পারেনি।

অনেক স্বপ্নের নবসৃষ্ট গুইমারা উপজেলাটি গুইমারার  জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার স্বরুপ। উপজেলা নির্বাচনের একবছর পূর্তিতে  গুইমারাবাসীকে ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ধন্যবাদ  জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সদর ইউপি চেয়ারম্যান মেমং মারমা বলেন, যারা নির্বাচিত হয়েছে তারা  সেবা, শ্রম দিয়ে কতটুকু নিজেদের প্রতিশ্রুত উন্নয়ন করেছে তা গুইমারাবাসীই বিবেচনা করবে। জাতীয় রাজনীতির নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে গুইমারার মানুষের উন্নয়নের কথা ভেবে নির্বাচিতদের সবসময়ে সহযোগিতা করেন বলেও জানান তিনি এবং উপজেলার অনেক অফিস সেটআপের জন্য নিজে ব্যক্তিগত চেষ্টা করেছেন  এবং অনেক ফার্নিচারও দিয়েছেন তিনি।

তবে নির্বাচিতদের আঞ্চলিক রাজনীতি এবং সমন্বয় হীনতার কারণে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন উপজেলা পরিষদের পক্ষে করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষা ব্যাবস্থা বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে অনেক পিছিয়ে গুইমারাবাসী স্থানীয়দের এমন দাবীর সাথে তিনি একমত পোষন করে বলেন,  আমাদের  জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, এম পি, মন্ত্রীর আমন্ত্রন যদি উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রহণ না করে সমন্বয়হীন ভাবে থাকে তাহলে উন্নয়ন করা সম্ভব হয়না।  এর পর  পার্বত্য জেলা পরিষদ, এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা নিজের উদ্যোগে অনেক উন্নয়ন স্বাধন করেছি। যা গুইমারার জন্য দৃশ্যমান হয়ে থাকবে।

গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়ার নিকট সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি গুইমারা উপজেলার ১বছর পূর্তি উপলক্ষে  গুইমারাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, গুইমারা উপজেলায়  যোগদানের পর থেকে সকল কার্যক্রমকে গতিশীল করেছেন তিনি। তবে গত দুই বছরে শিক্ষা স্বাস্থ্যসহ যে সকল বিষয় গুলো নিয়ে জটিলতা ছিল সেগুলো দ্রুত নিরসন হয়ে যাবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করছেন।

তিনি আরও বলেন ইতিমধ্যে প্রানি সম্পদ বিভাগের দু’তলা ভবন উদ্বোধন হয়েছে এবং প্রকৌশলী বিভাগের কাজ শুরু সহ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার যোগদান করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষাসহ বাকি দপ্তর গুলোর বিষয়ে অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবন জটিলতার বিষয়ে তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে একটু জটিলতা ছিল আমাদের এমপি, জেলা প্রশাসক এবং জেলাপরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে এ বিষয়ে আমি আলোচনা করেছি আশা করছি আগামী দুই মাসের মধ্যেই উপজেলা ভবনের কাজও শুরু হয়ে যাবে। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের সমন্বয়হীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এগুলো তাদের ব্যক্তিগত বিষয় আমরা সকল বিষয়ে তাদেরকে লিখিত পত্রের মাধ্যমে অবগত করি।

উপজেলা চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার কার্যক্রম চলছে। একটি সিন্ডিকেটের কারণে উপজেলা ভবনের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম নিয়ে জটিলতা ছিল। তবে এখন তা নিরসন হয়েছে। আশাকরছি শ্রীঘ্রই কাজ শুরু হবে। তবে সমন্বয়হীনতা এবং নিমন্ত্রণ গ্রহণ না করার বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করনেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *