গুইমারা উপজেলা আ’লীগ সভাপতির গাড়িতে হামলা ইউপিডিএফ অবরোধকারীদের 


 

গুইমারা  প্রতিনিধি:

পার্বত্য সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) ডাকে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের হাত থেকে রক্ষা পায়নি গুইমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের গাড়িটিও। গুইমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের চট্রমেট্রো গাড়ির সামনের গ্লাসটি ভেঙে দিয়েছে ইউপিডিএফের অবরোধকারীরা।

শনিবার সকালে গুইমারা থেকে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্য রওয়ানা হয় গাড়িটি। জালিয়াপাড়া থেকে একটু সামনে রামগড়ের আওতাধীন এগারো মাইলে গেলে অবরোধকারীরা সামনে এসে ইট পাটকেল নিক্ষেপ এর মাধ্যমে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে জানাযায়। এসময় ইউপিডিএফের কর্মীরা জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এবিষয়ে গাড়ির মালিক গুইমারা উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আক্রমণকারীদের আমি এবং আমার ড্রাইভার কেউ চিনতে পারি নাই। তবে তারা অবরোধকারীদের লোক। এতে আমার প্রায় সত্তর হাজার টাকার ক্ষতি স্বাধন হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় এই গাড়িটি আমার খুবই সখের গাড়ি। হরতাল অবরোধ দেশের কোন লোক কামনা করেনা। আমরা পাহাড়ে কোন সংঘাত চাইনা, চাইনা কোন হরতাল অবরোধ। আমার মত ক্ষতি স্বাধন যেন অন্য কোন ব্যক্তিকে করতে না পারে সে দিকে প্রশাসনকে বিশেষ নজর রাখা দরকার।

ইউপিডিএফের সংগঠক মিঠুন চাকমার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে এ অবরোধের ডাক দেয় সংগঠনটি।এমন ঘটনা যৌথ খামারসহ অন্য অন্য জায়গায় ঘটানোর চেষ্টা করলে নিরাপত্তাবাহিনীর বিশেষ তৎপরতার কারণে তারা পালিয়ে যায়।

রামগড়ে প্রশাসনিক ভাবে জোরালো অবস্থান না থাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নৈশকোচের একটি গাড়িতে রামগড়ের যৌথ খামার এলাকায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সদস্যরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে গাড়ির গ্লাস ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানাযায়। অথচ পাশ্ববর্তী উপজেলা গুলোতে অবরোধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় অবরোধকারীরা রাস্তায় দাঁড়াতে পারে নাই।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সভাপতির গাড়ির গ্লাস ভাঙ্গার কারণে গুইমারা আওয়ামী লীগ পরিবার এর তীব্র নিন্দা ও দুষ্কৃতিকারীদের বিচার দাবি করেছে।

প্রসঙ্গত, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (প্রসীত বিকাশ খীসা) এর অন্যতম সংগঠক মিঠুন চাকমা প্রকাশ জুম্মা বুধবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খাগড়াছড়ি আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা তার তলপেটে ও মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এবিষয়ে রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা বিজিবিসহ রামগড় উপজেলাকে অবরোধের বিষয়ে সর্বাত্মক নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। অবোরোধকারীরা দুই একটি ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছে। আমরা তাদেরকে প্রতিহত করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *