গুইমারায় ইউপিডিএফ’র ডাকে সড়ক অবরোধে গাড়ি ভাংচুর


গুইমারা প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির গুইমারায় সকালে পৃথক হামলায় তিনটি শান্তি গাড়ি ভাংচুর করেছে ইউপিডিএফ’র কর্মীরা। বৃহস্প্রতিবার (১৫ নভেম্বর) ভোরে গুইমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মেইন রোডে টায়ারে আগুন দিয়ে শুরু করে ইউপিডিএফ’র নেতা কর্মীরা সড়ক অবরোধের পিকেটিং।

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শান্তি গাড়ি সকাল ৬টায় গুইমারা বাইল্যছড়িতে ইউপিডিএফ’র পিকেটারদের কবলে পড়ে। তাদের ছোড়া ইটপাটকেলে গাড়িটির সামনের গ্লাস ফেটে যায়। ড্রাইভার গাড়িটি রাস্তা পার করে যাত্রীদের নামিয়ে দেন এবং পরবর্তীতে গুইমারা বাজারে এসে অবস্থান নেন বলেও জানান।

অপর দিকে রামগড়ের যৌতখামার এলাকায় সকাল ৮টায় দু’টি শান্তি গাড়ি ( ঢাকা মেট্রো ১৪১০৩৩এবং ঢাকা মেট্রো ১৪২০৩৮ ) ভাংচুর করে ইউপিডিএফ’র পিকেটাররা। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনার শঙ্ককায় নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে যথেষ্ট সতর্ক অবস্থায়।

জানাযায় পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’র (ইউপিডিএফ) প্রধান  প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বের বিরদ্ধে সংগঠনের ভিন্নমত পোষণকারীদের হত্যা, চাঁদাবাজি, গুম, খুন, অপহরণ, জাতীয় দিবস বর্জনসহ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ এনে বুধবার (১৫ নভেম্বর) খাগড়াছড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা ও জলেয়া চাকমা তরু’র নেতৃত্বে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামে আলাদা সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

অপরদিকে নতুন গঠিত ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক কমিটিকে রাষ্ট্রীয় মদদে নব্য মুখোশ-বোরকা বাহিনী আখ্যায়িত করে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ নেতৃবৃন্দ। মূলত নেতৃত্বে কোন্দলের জেরে পাল্টা কমিটি গঠনের প্রতিবাদে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ’র ডাকে খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ কঠোরভাবে পালিত হচ্ছে।

প্রসংগত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির স্বাক্ষরের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গেরিলা নেতা সন্তু লারমার নেতৃত্বে অস্ত্র সমর্পন করে জনসংহতি সমিতির সদস্যরা। আর ঐদিনই প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে শত শত পতাকা উত্তোলন করে অস্ত্র সমর্পন অনুষ্ঠানকে ধিক্কার জানানো হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) গঠিত হয়। পাহাড়ে শুরু হয় সন্তু ও প্রসীতের নেতৃত্বে দুই সংগঠনের আধিপত্য রক্ষার লড়াই।

২০০৮ সালে জেএসএস ভেঙ্গে সুধা সিন্দু খীসার নেতৃত্বে গঠিত হয় জেএসএস(এমএন) গ্রুপ। এবার শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘাত। কখনো জেএসএস-ইউপিডিএফ আবার কখনো জেএসএস(সন্তু)-জেএসএস(এমএন)। কখনো কখনো নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে।

এই সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে পাহাড়ের অন্তত সাড়ে ৬ শতাধিক প্রাণোচ্ছল যুবক। এছাড়াও সহস্রাধিক আহত হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের এই আধিপত্য ১৫ নভেম্বর ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে  এখন পাহাড়ে চতুর্মুখি সংঘাতে অবস্থান করছে।

অবরোধের বিষয়ে গুইমারা থানা অফিসার ইনচার্জ সাহাদাত হোসেন টিটু বলেন, গুইমারার সকল গুরুত্বর্পূন স্থানে পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুষ্কৃতিকারীদের কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সুযোগ দ্ওেয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *