গুইমারায় আ’লীগ অফিস ভাংচুরের অভিযোগে আটক ৪


 

গুইমারা প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি  আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুরের অভিযোগে ৪জনকে আটক করেছে গুইমারা থানা পুলিশ।

বুধবার (১৭ এপ্রিল )  রাত ১০টায় একটি বিচারকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটলে গুইমারা থানা পুলিশ তাদের আটক করে বলে পুলিশি সূত্রে জানা যায়।

আটককৃতরা হলেন সিন্দুকছড়ি শারাফাতের ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, মাইন উদ্দিন এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান। তারা সকলেই সিন্দুকছড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদল করেন বলে জানাযায়। আটক চারজন ছাড়াও এজাহারে ২০জন এবং অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে বুধবার সকাল ১০টায়।

জানাযায় নববর্ষকে বরণ করতে স্থানীয় রুপান্তর মানব কল্যাণ ক্লাবের পক্ষে শুভ নববর্ষ লিখলে স্থানীয় ছাত্রলীগ সদস্য জয়নাল মোটর সাইকেল দিয়ে দুইবার লেখাটি নষ্ট করে দেয়। এ নিয়ে  প্রতিবাদ করলে কলেজ ছাত্র তাহাজুলকে মারধর করে জয়নাল।

পরে ক্লাবের সদস্যরা বিষয়টি যুবলীগের সহ-সভাপতি খলিল, রফিক এবং জয়নালের বড় ভাই শেখ রাসেল সংসদের সভাপতি ইউছুফ কে জানালে তারা বিষয়টি সামাজিক ভাবে বসে মিমাংসা করার জন্য ১৭ এপ্রিল রাতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউলের নেতৃত্বে তার দোকানে বৈঠক বসে। বৈঠকে রেজাউল সাহেব তাহাজুল এবং জয়নালকে বুকে বুক মিলিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন। এনিয়ে তাহাজুলের আত্মীয় স্বজন এবং স্থানীয় লোকজন জয়নালের উপর চড়াও হয়।

এবিষয় নিয়ে সিন্দুক ছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউলের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, নববর্ষকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সদস্য এবং ছাত্রদলের সদস্যদের একটি সাংঘর্ষিক সমস্যা তৈরি হয়। পরে  স্থানীয়দের মৌখিক অনুরোধে আমি বিষয়টি নিরসনের চেষ্টাকরি। বৈঠকের একপর্যায়ে ছাত্রদলের ছেলেরা ক্ষীপ্ত হয়ে যায়। ১০-১৫ মিনিট পরে দেখি আমাদের আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর হয়েছে।  তারা বৈঠকে নারী পুরুষ মিলে প্রায় ১০০-১৫০ জন নিয়ে এসেছিল। এটা বিএনপির উদ্দ্যেশ্য প্রনীত চক্রান্ত। ভাংচুরকারীদের বিষয়ে উপযুক্ত বিচার দাবি বরেন তিনি।

এবিষয়ে গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউছুফ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি একটি মিথ্যা মামলা আমরা আইনগত ভাবে এর মোকাবেলা করবো মর্মে তিনি জানান।

গুইমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, আমি সিন্দুকছড়ি গিয়েছিলাম ঘটনার বাস্তবতা দেখতে। যারা বঙ্গবন্ধুর ছবি ভেঙ্গেছে দলীয় অফিস ভাংচুর করেছে তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।

গুইমারা থানা অফিসার ইনচার্জ গেয়াস উদ্দিন বলেন, সিন্দুকছড়ি আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুরের  ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে এবং আটককৃত চারজনসহ এজাহারে ২০জন এবং অজ্ঞাত ১০ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩০৭/৩৮৯/৪২৭/৫০৬ ধারায় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাব্বত আলী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে। গুইমারা থানার মামলা নং-৪। পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে মর্মে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *