গুইমারাতে পাহাড় খেকোরা বেপরোয়া


গুইমারা প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির গুইমারাতে এবার বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পাহাড় খেকোরা। দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করার দৌরাত্ব বেড়েই চলছে চক্রটির।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিশেষ কোন মহলকে ম্যানেজ করে দিনে-রাতে চালিয়ে যাচ্ছে এসব মাটি বিক্রির কাজ। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয়রা। যে কোন সময় পাহাড় ধসে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে প্রাণহানীর মত দুর্ঘটনার প্রতিরোধে সম্প্রতি গুইমারা উপজেলা সম্মেলন কক্ষে বনজ সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলন বন্ধসহ নানান বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের কর্তা ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশাসন বেশ কিছু সচেতনতামূলক সভা-সেমিনারের আয়োজন করেছে। কিন্তু এত কিছুর পরও থামছেনা পাহাড় খেকোরা।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ১০ই মে উপজেলার বাইল্যছড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কতিপর পাহাড় খেকো চক্রটি বাইল্যছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে অবস্থিত ব্রিজের পাশে থাকা একটি মাঝারি আকৃতির পাহাড় কেটে তা ড্রাম-ট্রাক করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছে। ফলে স্কুল ও ব্রিজটি বর্তমানে অনেকটাই ঝুঁকিতে আছে। যে কোন সময় পাহাড় ধসের আশংকা স্থানীয়দের।

এদিকে মাটি ভর্তি শত শত গাড়ি গুইমারার মেইন সড়কের উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত অতিক্রম করলেও তা যেন দেখার কেউ নেই।

এছাড়াও কিছু কিছু সময় অসাধু চক্রটি ট্রাকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর নাম সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে জনগনকে বোকা বানিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অপকর্ম। সম্প্রতি গুইমারা বাইল্যাছড়ি জোড়া ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে খালের পাড় কেটে বালু বিক্রি করার জন্য ব্যবহৃত ট্রাকে জালিয়াপাড়া-সিন্দুকছড়ি সড়ক নির্মাণ কাজে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর নাম সম্বলিত স্টিকার ব্যবহার করছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কার্যকরী কোন ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়নি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবো কার কাছে? রক্ষক যেখানে ভক্ষকের ভুমিকায় অবতীর্ণ সেখানে কিছু করার নাই, শুধু দেখে যাওয়া ছাড়া।

১২ মে শনিবার দুপুরে পাহাড় কাটার সংবাদ পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মমভাবে পাহাড় কাটার ছবি সংগ্রহ করলে এ চক্রের মূল হোতা স্থানীয় মেহেদুল মাঝির ছেলে যুবদল নেতা শুক্কর আলী দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের প্রতিনিধি আব্দুল আলীকে প্রথমে মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়।

পরবর্তীতে গুইমারা বাজারে অবস্থিত নাজমা হোটেলে প্রকাশ্যে ভোরের কাগজে নিউজ করলে প্রতিনিধিকে দেখে নেয়ারও হুমকি দেন ক্ষমতাধর পাহাড় খেকো শুক্কুর আলী। তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, আমিতো চর কেটে আনতেছি আপনাদের সমস্যা কোথায়। আমার মাটির গাড়ি কালো রাস্তা দিয়ে যায়, অবৈধ হলে দেখার জন্য প্রশাসন আছে, আপনাদের সমস্যা কোথায়? কালো রাস্তা দিয়ে আমার গাড়ি কিভাবে যায় তা দেখার প্রশাসন আছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, গুইমারা উপজেলার অধিকাংশ পাহাড় কেটেছে শুক্কর আলী। তার নিজস্ব স্কাবেটর দিয়ে কাটা হয় এসব পাহাড়। এছাড়াও তার নিজস্ব বেশ কয়েকটি ট্রাক্টর দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ বালু ব্যবসাও।

সচেতন মহলের মতে ক্ষমতাধর এ চক্রটির কাছে প্রশাসন অসহায়, অন্যথায় এতসব কাণ্ডের পরও আইন-শৃংখলা বাহিনী হতে শুরু করে সর্বমহলে অবহিত করা হলেও থামছেনা তাদের অপকর্ম। প্রশ্ন উঠেছে এসব দেখার দায়িত্ব কার ?

এ বিষয়ে গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, পাহাড় কাটা, মাটি বিক্রি ও অবৈধ বালু উত্তোলনকারী মহলের সাথে পুলিশের সম্পৃক্তা নেই। তারপরও বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, আমি ঐ স্পটে বেশ কয়েকবার গিয়েছিলাম কিন্তু শুক্কুরকে হাতে নাতে পাইনি, তবে বিষয়টি আমরা অবগত আছি তার বিষয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *