খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে ছেলেকে অস্ত্র মামলা দেয়ার অভিযোগ মায়ের


চকরিয়া প্রতিনিধি:

চকরিয়ায় খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে বিনা অপরাধে সরওয়ার আলম নামে এক যুবককে আটকিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করাসহ অস্ত্র মামলা দিয়ে জেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢেমুশিয়ার মহিলা মেম্বার আরজ খাতুনের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এনিয়ে চকরিয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে হয়রানির শিকার সরওয়ার আলমের মা মমতাজ বেগম। সে চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মাঝেরপাড়া গ্রামের কৃষক আবদু ছাত্তারের একমাত্র পুত্র।

সংবাদ সম্মেলনে মা মমতাজ বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী আবদুস ছত্তার প্যারালাইসি রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমান প্রতিবন্ধী। ফলে তার ছেলে সরোয়ার আলম পারিবারিক জমি-জমায় লবণ চাষাবাদ করে দুঃখ কষ্টের মধ্যে কোন রকম সংসার চালায়। ঘটনার দিন ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় ঢেমুশিয়া স্কুল মাঠের স্টেডিয়ামে একটি ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে তার ছেলে সরওয়ারকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আটকিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে স্থানীয় ঢেমুশিয়া ইউপির মেম্বার ও এক সময়ের দুর্ধর্ষ নারী সন্ত্রাসী আরজ খাতুন। থানায় ২দিন ধরে আটকিয়ে রেখে, তার বিরুদ্ধে কোন ধরণের মামলা-মোকাদ্দমা কিংবা অভিযোগ না পেয়ে মামলাবাজ আরজ খাতুন বাদী হয়ে ২ ফেব্রুয়ারি দায়ের করা একটি মিথ্যা মামলায় ছেলে সরওয়ার আলমকে ৪নং আসামি করে। একদিন আটকাবস্থায় থাকার পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢেমুশিয়ার কিবরিয়া মৎস্য প্রজেক্ট নামে আরজ খাতুনের স্বামী শাহ আলমের বড় ভাই বদিউল আলমের মৎস্য প্রকল্পে আরজ খাতুনের পারিবারিক একটি অস্ত্র ঢুকিয়ে রেখে পুলিশকে দিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজায়। ওই অস্ত্র দিয়ে ফের নিরপরাধ কৃষক পুত্র সরওয়ার আলমের বিরুদ্ধে থানায় একই তারিখে আরও একটি অস্ত্র মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। এমনকি অস্ত্র মামলায় ১নং স্বাক্ষী রাখা হয়েছে এলাকার চিহ্নিত ডাকাত ও একাধিক মামলার পরোয়ানাভূক্ত আসামি ঢেমুশিয়া ছয়কুড়িটিক্কাপাড়া গ্রামের মৃত মনির উল্লাহর পুত্র আনছার আলম (২৯)।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি এতোদিন তার হাতেই রক্ষিত ছিল। সরওয়ারের মা মমতাজ বেগম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালত মামলা পর্যালোচনা করে আরজ খাতুনের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা (নং জিআর ৫১৫/১৮) থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি সরওয়ার আলমকে জামিন দিয়েছেন। মূলত: আমাদের সাথে বদরখালীর দুবাই মৎস্য প্রকল্পের মালিকদের সাথে বিরোধ থাকায় দুবাই ঘোনার মালিকদের সাথে যোগসাজস করে তার ছেলেকে আরজ খাতুন মামলা ও অস্ত্র দিয়ে ফাসিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ বেগম বলেন, আরজ খাতুন একজন চিহ্নিত চোর ও সন্ত্রাসী। তার ছেলে বেলাল উদ্দিন আন্ত:জেলা চোর সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। যার কারণে একাধিক মামলায় বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। একই ভাবে আরজ খাতুনের বিরুদ্ধে দোকান থেকে স্বর্ণ চুরির অভিযোগে টেকনাফ থানায় বিগত ২ ফেব্রুয়ারি মামলা (নং ০৪,জিআর ৯৪) রুজু হয়েছে। যে মামলার বাদী চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বাসিন্দা ও টেকনাফ বাহারছড়া শামসলাপুর বাজারের মুক্তা জুয়েলার্সের মালিক মৃত দূর্ঘা চন্দ্র ধরের পুত্র বিন্দু চন্দ্র ধর (৫৫)। সে ওই সময় দোকান থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে ১১ ভরি স্বর্ণ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতে নাতে আটক হয়।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মমতাজ বেগম বিজ্ঞ আদালত, জেলা প্রশাসন, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ও থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আইনী সহায়তা কামনা করেন এবং নিরপরাধ ছেলে সরওয়ারের মুক্তি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মমতাজ বেগমের ভাই জয়নাল উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, চাচা সৈয়দ আলম ও বদরখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার শফিউল আলমসহ পরিবারের সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *