খাগড়াছড়ি শহরে পাহাড় ধসের ঝুঁকি এড়াতে ১০টি বসতবাড়ি ও ১০টি বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদ


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

পাহাড় ধসের ঝুঁকি এবং অনাকাঙ্খিত প্রাণহানি এড়াতে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের ন্যান্সি বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ১০টি বসতবাড়ি ও ১০টি বাণিজ্যিক উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

বেশ কয়েকবার মাইকিং এবং মৌখিক নির্দেশে অবৈধ দখলদাররা অবস্থান ত্যাগ না করায় পৌরসভার সহযোগিতায় ১০টি বসতবাড়ি এবং ১০টি বাণিজ্যিক স্থাপনা বুলডোজার ও স্ক্যাভেটর দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও মো. আবুল হাশেম বলেন, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সর্বশেষ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পাহাড় ধসের ঝুঁকিপ্রবণ সব এলাকায় চালানো হবে।

এসময় খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও মো. আবুল হাশেম, সদর থানার উপ-পরিদর্শক মো. মাসুদসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

গত কয়েক বছর ধরে বেপরোয়াভাবে পাহাড় কেটে বসতবাড়ি এবং বাণিজ্যিক প্লট তৈরি করে তা ভাড়া দিয়ে আসছিল একটি চক্র। চলতি সপ্তাহে টানা বর্ষণের সময় ওই এলাকায় বড় রকমের পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে অবৈধ দখলদাররা তাদের মালিকানার সপক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি। তবে মানবিক কারণে সময় প্রার্থনা করলেও ঝুঁকি ও প্রাণহানির আশঙ্কায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অব্যাহত রাখার দৃঢ়তা ব্যক্ত করা হয়।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম বলেন, পুরো পৌর শহরের পাহাড়কাটা, পাহাড়ধস, ছড়া-খাল দখল এবং মাটি ভাঙ্গনপ্রবণ এলাকার একটি তালিকা প্রণয়ণের কাজ চলছে। সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে এটি তৈরি করা হবে। সেক্ষেত্রে যে বা যাদের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটা এবং ছড়া-খাল দখলের ঘটনা প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *