খাগড়াছড়ি আদালত চত্বরে পানছড়ির আ’লীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগ, বিক্ষোভ ও রামগড়ে সড়ক অবরোধের পর প্রত্যাহার


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

দলীয় কোন্দলের জেরে খাগড়াছড়ি আদালত এলাকায় আলমগীর হোসেন(৩৫) নামে পানছড়ির এক আওয়ামী লীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খাগড়াছড়ি সদরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির অনুসারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পানছড়ি প্রতিপক্ষের হামলায় দু’জন আহত হয়েছে। জেলার রামগড়ে প্রায় তিন ঘন্টা খাগড়াছড়ি-ফেনী ও ঢাকা সড়ক অবরোধ করে রাখে এমপির সমর্থকরা।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরীর অভিযোগ, পানছড়ি সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন খাগড়াছড়িতে একটি মামলার স্বাক্ষী দিতে আসলে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমের সমর্থকরা তাকে আদালত চত্বরে মারধর করে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষনিক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির অনুসারীরা মিছিল বের করলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আটকে দেয়। তারা মিছিল থেকে মেয়র রফিকুল আলম বিরোধী শ্লোগান দেয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, মেয়রের ছোট ভাই ও জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম।

এ দিকে ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে জেলার রামগড়ে এমপির অনুসারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরবর্তি ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত খাগড়াছড়ি-ফেনী ও ঢাকা আঞ্চলিক সড়কে অবরোধ ডাকে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়।

রামগড় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বিশ্বজিত ত্রিপুরা জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তক্রমে সড়ক অবরোধ ডাকা হলেও পরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নির্দেশে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে।

এ দিকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পানছড়ি উপজেলার জিয়া নগরে প্রতিপক্ষের হামলায় দ্বীন ইসলাম(২৫) ও সোহাগ(২৩) নামে দ্ইু আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হয়। তাদের পানছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা মেয়র রফিকুল আলমের অনুসারী বলে জানা গেছে। হামলার জন্য মেয়রের অনুসারীরা এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অনুসারীদের দায়ী করেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাব দেব।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, প্রশাসন সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে আশ্বাস দেওয়ায় ও যাত্রীদের দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে দলীয় সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

প্রসঙ্গত, গত পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি আওয়ামী লীগের বিভক্তির সৃষ্টি হয়। সে থেকে প্রতিনিয়ত দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত অর্ধশতাধিক হামলা, পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষে কমপক্ষে শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ সব ঘটনায় মামলা হয়েছে অর্ধশতাধিক। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শুধুমাত্র চলতি বছরে ১০ মাসে দুই গ্রুপের মধ্যে ২১টি সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষ ও হামলায় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির ২৭জন নেতাকর্মী ও মেয়র রফিকুল আলমের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *