খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের ঘটনায় আগামীকাল অর্ধবেলা সড়ক অবরোধ


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

সন্ত্রাসী হামলায় ৬ নিহতের প্রতিবাদে সোমবার খাগড়াছড়িতে অর্ধবেলা সড়ক অবরোধ ডেকেছে ইউপিডিএফ(প্রসীত) সমর্থিত তিন পাহাড়ি সংগঠন।

এঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। আধিপত্য বিস্তারের জেরে গেল শনিবার সকালে খাগড়াছড়িতে স্বনির্ভর বাজারে বিবদমান দুই  পাহাড়ি  গ্রুপের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী বন্দুক যুদ্ধে ৬জন নিহত হত্যাকান্ডের পর সর্বত্র থমথমের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাদত হোসেন টিটু জানান, সংঘর্ষের হতাহতের ঘটনায় এখনো কোন পক্ষ মামলা করেনি। শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে তিনি জানান।

ময়না তদন্তের পর তিনটি লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও অপর তিনটি লাশ নিতে এখনো কেউ আসেনি। ইউপিডিএফ(প্রসীত)গ্রুপ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি সভাপতি তপন চাকমা, এল্টন চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুবফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা সহ-সভাপতি পলাশ চাকমার লাশ খাগড়াছড়ি সদর থানায় রাখা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান, গেল শনিবার সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে দাবি করে বলেন, দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের সংঘর্ষের সাথে শন কুমার চাকমার(৫৫) মৃত্যু কোন সম্পর্ক নেই। ঘটনাস্থল থেকে অনেক দুরে শন কুমার চাকমা ব্রিজ থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে মৃত্যু হয়েছে।

পাহাড়ে বিবদমান পাহাড়ি সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তার লড়াই, চাঁদাবাজি, খুন-অপহরণ এখন নিত্য দিনের ঘটনা। এ লড়াইয়ে চলতি বছরে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৩২ জন। পাহাড়ে বিবদমান  সংঘাতে ধারাবাহিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় সচেতন মহল  উদ্বেগ-উৎকন্ঠা প্রকাশ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী এ নির্মম হত্যাকান্ডের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কয়েকশ সন্ত্রাসীর হাতে জেলার প্রায় ৬ লাখ মানুষ জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। এর অবসান হওয়া দরকার।

খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের সংঘর্ষে হতাহতের  ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: ইউসুফ আলীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাহাড়ে চলমান সংঘাত-সংঘর্ষের অবসান ও স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি  চায় এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *